মার্চে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করেছে রাশিয়া। রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা টাস। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পুতিনসহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রত্যেকেই ইউক্রেন-মস্কো যুদ্ধকে সমর্থন করে।

অন্যদিকে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী বরিস নাদেজদিন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) স্বাক্ষর সংগ্রহের ত্রুটির কারণে রাশিয়ান যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী বরিস নাদেজদিনের প্রার্থীতা বাতিল করেছিল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাশিয়ান ডুমার ডেপুটি চেয়ার এবং নিউ পিপল ককাসের সদস্য ভ্লাদিস্লাভ দাভানকভ; ক্রেমলিন-অনুগত অতি-জাতীয়তাবাদী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপিআর) নেতা লিওনিড স্লুটস্কি এবং কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত নিকোলাই খারিটোনভ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির প্রার্থী হিসেবে না থেকে এবার ৭ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন পুতিন।

আগামী মাসের ভোটে তিনি সহজেই জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আরেক দফায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ছয় বছরের মেয়াদকাল পূর্ণ করলে পুতিন একটি রেকর্ড গড়বেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ১৮ শতকের পর রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাসক হবেন।২০০০ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়ায় ক্ষমতায় আছেন পুতিন।

যদিও নাদেজদিনের প্রার্থীতা বাতিল করার ব্যাপারটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলাচনা-সামালোচনা চলছে , ক্ষমতাসীন পুতিনের সামনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে খুব একটা শক্তিশালী ছিলেন না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধকে ‘মারাত্মক ভুল’ বলে মন্তব্য করে নাজদেদিন পুতিনের যে কঠোর সমালোচনা করেছেন তাতে বেশ অবাক হয়েছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন তার  প্রার্থীতা বাতিল করার পর বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নাজদেদিন বলেছিলেন, রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টে সিইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবেন তিনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। রাশিয়ার এই অভিযান এখনো চলছে। এই যুদ্ধে দুই পক্ষই হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় নাগরিক।  অনেক শহর ও গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে।