ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির সম্মতির পরও জেরুজালেমে তৃতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধরনটি বেশ পরিচিত। যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেকে সম্পূর্ণ বিজয়ী বা অন্তত মুখরক্ষাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে এলদার বলেন, ‘আশা করি এটিই সংঘাতের শেষ অধ্যায়। এটি হয়তো সুড়ঙ্গের শেষে আলোর সূচনা।‘ তিনি আরো উল্লেখ করেন, গাজায় হামাস এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ক্ষমতার ভারসাম্য বা ক্ষয়ক্ষতির ভারসাম্য উন্নত করার চেষ্টা করে এবং বলে—দেখুন, শেষ ছবি, শেষ ফুটেজ বা শেষ দৃশ্যে আমরা দেখাচ্ছি যে আমরা ভালো করছি। আমরা আত্মসমর্পণ করছি না। তারা যা করতে পারে, আমরা তা আরো ভালোভাবে করতে পারি।‘

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এখন ইরানের তৃতীয় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। এর আগে প্রথম দুই দফায় রকেট হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের বীরশেবায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি আঘাতের ফলে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। আক্রান্ত স্থানটি ছিল দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি সাততলা ভবন।

বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন অংশে সাইরেন বাজছে। তৃতীয় দফায় কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রথম দুই দফায় মোট ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল—প্রথম দফায় দুটি এবং দ্বিতীয় দফায় চারটি।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বর্তমানে নিক্ষেপিত সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে এবং জনগণকে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, এই ঘটনা কখন শেষ হবে তা এখনো অনিশ্চিত।