যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাসের সঙ্গে চুক্তি করেছেন পাকিস্তান। ভারতের একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানিকে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দেয়ার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করল কোম্পানিটি। পাওয়ারাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ রয়েছে। খবর আল জাজিরা।
১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন কোম্পানিটি জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তারা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের জন্য ‘সীমিত ক্রয়াদেশ’ পেয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কথাও জানায় তারা। তবে ক্রয়াদেশের মূল্য বা কী ধরনের ড্রোন কেনা হচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার বড় কারণ ভারতের সঙ্গে পাওয়ারাসের সম্পর্ক। পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির তিন মাসেরও কম সময় আগে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিসকে ভারতে পাওয়ারাসের গার্ডিয়ান-১ ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দেয়া হয়। ভারত ও পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে সংঘাতে জড়িয়েছিল, যেখানে উভয় পক্ষ ড্রোন ব্যবহার করে।
পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জিভ মারোম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য। কোম্পানির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাস্টিন গ্যান্স আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের মার্কিন শাখায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পাকিস্তানের এক সাবেক জেনারেলের মতে, এ ধরনের পটভূমি সাধারণত প্রতিরক্ষা চুক্তির যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্ব পায়। তবে বিশ্লেষক বিলাল খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের অস্ত্রব্যবস্থায় থাকা ইসরায়েলি উপাদান পাকিস্তান অতীতেও গ্রহণ করেছে।
পাকিস্তানের নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও নতুন এ কোম্পানির প্রয়োজন কতটা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। ইসলামাবাদ তুরস্কের বায়রাখতার টিবি-২ ও আকিনজি, চীনের উইং লুং-২ এবং দেশীয় শাহপার-২ ব্যবহার করে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের আগ্রহ সম্ভবত শুধু ড্রোন কেনায় নয়; স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তি উৎপাদন ও সক্ষমতা তৈরিতেও।
বিলাল খান বলেন, এখনই চুক্তিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া ঠিক হবে না। আগামী মাসগুলোতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য বিদেশী ও স্থানীয় সরবরাহকারীর সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করে কিনা, সেটিই দেখাবে এ উদ্যোগ এককালীন নাকি ধারাবাহিক নীতির অংশ।










