পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় আগে। এখনো শেষ হয়নি ফল ঘোষণা। অন্তত ৮টি আসনের ফলাফল এখনো অপেক্ষমাণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছেন ইমরান খানের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা এবার সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। একইসঙ্গে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলে সমর্থকদের বিক্ষোভে নামারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী তাদের জন্য সরকার গঠন অনিশ্চিত। কারণ দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তারা সংরক্ষিত আসন পাবেন না। এতে পাকিস্তানে ২৪তম প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। খবর রয়টার্স ও ডন।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। বাকি ৭০টি সংরক্ষিত আসন, যার মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি অমুসলিমদের জন্য। এবার একটি আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় মোট ২৬৫ আসনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দলগুলোকে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে অন্তত ১৩৪টি আসন পেতে হবে তাদের। আর পাকিস্তানের নির্বাচনী আইনের অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পেতে পারে না। মূলত ৭০টি আসন দলীয় শক্তি অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে ২০টি আসন পেতে পারে নওয়াজ শরিফের দল।
রয়টার্স বলছে, পাকিস্তানের কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল সমর্থিত প্রার্থীরা সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন বলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর একজন সিনিয়র সহকারী শনিবার জানিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলেছে, ফলাফল ঘোষণা করা ২৫৬টি আসনের মধ্যে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৩টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টিও ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাকিগুলো ছোট কিছু দল জিতেছে।
মূলত ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) দল হিসাবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া হয়নি। এমনকি তাদের নির্বাচনী প্রতীকও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। আর তাই ইমরানের দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে, ইমরান খান এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ উভয়ই শুক্রবার বিজয় ঘোষণা করেছেন। এই অবস্থায় কে পরবর্তী সরকার গঠন করবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, সেটিও আবার এমন এক সময়ে যখন দেশটিতে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এমন অবস্থায় ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির চেয়ারম্যান গহর খান পাকিস্তানের ‘সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে’ তার দলের ম্যান্ডেটকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যারিস্টার গহর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, শনিবার রাতের মধ্যে ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা না হলে দলটি রোববার সারাদেশে সরকারি অফিসের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করবে। ইমরান খানের শত শত সমর্থক পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে দলের দুই নেতার নেতৃত্বে সমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তাদের পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইমরান খানের সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রীদের একজন তৈমুর খান ঘাগরা বলেছেন, ‘আমরা কখনোই আশা করিনি, আমাদের সাথে এমনটি ঘটবে।’ এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মিডিয়া উপদেষ্টা জুলফি বুখারি রয়টার্সকে বলেছেন, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরের দিনই ঘোষণা করা হবে যে, কোনো দলীয় ব্যানারে তারা স্বতন্ত্রদের যোগ দিতে বলবে। মূলত পাকিস্তানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেরাই সরকার গঠন করতে পারে না এবং তাদের কোনো একটি দলে যোগ দিতে হবে।










