দুই বছর আগের বিক্ষোভের পরেও ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) নিশ্চয়তা দেওয়ার আইন, কৃষকদের জন্য পেনশন, শস্যবিমা ও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবি পূরণ করেনি সরকার। ফলে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের কৃষকদের আন্দোলন। এতে কৃষকদের বিভিন্ন দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিযাত্রার ডাক দেন পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের হাজার হাজার কৃষক। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এতে কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যে দমন-পীড়নমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা। খবর বিবিসি।

কৃষকরা বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে এর আগে ২০২০ সালে তাদের প্রতিবাদ শুরু করে। সেসময় কভিডে দেশটির কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর পর দিল্লির সীমানায় অবস্থান নেন হাজার হাজার কৃষক। ফলে তখনকার আন্দোলন ঠেকাতে বেকায়দায় পড়েন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

পরে ২০২১ সালে প্রস্তাবিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে কৃষক নেতারাও তাদের আন্দোলনে প্রত্যাহারে সম্মত হন। এছাড়া সেসময় যেসকল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় তা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছিলেন সরকার। কৃষকদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস থাকলেও এমএসপি নিশ্চয়তার লক্ষ্যে অন্দোলন করে গেছেন তারা। সেক্ষেত্রে সম্প্রতি দিল্লিযাত্রার এ আহ্বান আগের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা।

২০২০ সালে ভারতের কৃষকসংগঠনগুলো বলেছিল, মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে কৃষিপণ্য রপ্তানি করা হবে। কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন না। বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো কৃষকদের বঞ্চিত করবে এবং বড় বাণিজ্যিক সংস্থা চুক্তির খেলাপ করলে কৃষকের পক্ষে আইনি মোকাবিলা কার্যত অসম্ভব হবে।

মূলত কৃষকদের এসব দাবি দাওয়া পূরণ না হওয়ায় আবারো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন কৃষকদেরসংগঠনগুলো।