জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর আরো ৬১টি কোম্পানিকে কালো তালিকায়ভুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বলেও দপ্তরটি মনে করে।

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১টি দেশে নিবন্ধিত মোট ২১৪টি কোম্পানি এখন এ তালিকায় রয়েছে। এর বেশির ভাগই ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া গত বছর তালিকায় থাকা ১৫৮টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটিকে সর্বশেষ হালনাগাদে বাদ দেয়া হয়েছে।

২০২০ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে একটি ভোটের মাধ্যমে প্রথম এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে কাউন্সিলের কোম্পানিগুলোকে কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই। মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করে তাদের ওপর চাপ তৈরি করাই এ তালিকার প্রধান উদ্দেশ্য।

তালিকায় নাম ওঠার কারণে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, এ প্রতিবেদন কোম্পানিগুলোকে আবারো মনে করিয়ে দেয় যে তাদের মানবাধিকার-সংক্রান্ত দায়িত্ব রয়েছে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কোম্পানিগুলোর যথাযথ যাচাই-বাছাই করবে বলেও প্রত্যশা করেন তিনি।

তবে ইসরায়েল এ তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনেভায় ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অন্যায় করেনি।

ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার এ ‘কুৎসিত প্রচেষ্টায়’ বন্ধুরাষ্ট্রগুলোকে সাড়া না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে জানানো হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগও দেয়া হয়েছে।

নতুন এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোয় ইসরায়েলি বসতিগুলো নিয়ে নতুন করে নজরদারি ও সমালোচনা বাড়ছে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটেন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, সেখানে ‘বসতি স্থাপনকারী’ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডাও।