আফগানিস্তান মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা। অশ্লীলতা রোধে সারা দেশে ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক কেটে দিয়ে টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ ব্ল্যাকআউট চলবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে ধীরে ধীরে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হতে থাকে। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুরু করেছিল তালেবান। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এবারই তালেবান সরকার দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করল।
মোবাইল ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট টিভি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাবুল অফিসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে থাকা তাদের ব্যুরোর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তেমনি হেরাত ও কান্দাহার শহরের সাংবাদিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছে, প্রায় ৮-৯ হাজার টেলিযোগাযোগ টাওয়ার বন্ধ করে দেয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ ব্ল্যাকআউট চলবে। এতে দেশজুড়ে ব্যাংকিং খাত, শুল্ক বিভাগসহ সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।যদিও কিছু কর্মকর্তা আগেই এর অর্থনৈতিক ক্ষতির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক কার্যত পুরোপুরি বন্ধ। জাতিসংঘের এক সূত্র বলেন, ‘অপারেশন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, সীমিত স্যাটেলাইট লিঙ্ক আর রেডিও যোগাযোগে নির্ভর করতে হচ্ছে।’
টেলিফোন পরিষেবা সাধারণত ফাইবার-অপটিক লাইনের ওপর নির্ভর করে। ফলে ইন্টারনেট কাটা হলে ফোন সেবাও কার্যত অচল হয়ে যায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ছিল ধীরগতি বা মাঝেমধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
নেটব্লকস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি ‘ইচ্ছাকৃত সেবা বিচ্ছিন্নতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ বিদেশে থাকা আফগানরাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ওমানে বসবাসরত এক প্রবাসী বলেন, ‘বন্ধ হওয়ার কারণে আমি কাবুলে থাকা পরিবারের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। কী হচ্ছে কিছুই জানি না, খুব চিন্তায় আছি।’










