ইয়েমেনে টানা বিমান হামলার প্রতিশোধে সৌদি আরবের তিনটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পর কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর ইয়েমেনে নতুন করে চালানো সৌদি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেদ্দা, মক্কা ও তায়েফে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। গতকাল ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে এ সতর্কতা পাঠানো হয়। তবে সম্ভাব্য বিপদের ধরন কী, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। বাসিন্দাদের শান্ত থেকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে, বিশেষ করে কোনো ভবনের ভেতরে বা জানালা থেকে দূরের কক্ষে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ খোলা স্থান, জানালা, বারান্দা ও ছাদ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যারা বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের নিকটস্থ ভবনে ঢুকতে অথবা শক্ত কোনো অবকাঠামোর আড়ালে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। গাড়িচালকদের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সেতু ও উঁচু ভবন থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং কেবল সরকারি চ্যানেলের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই এ সতর্কতা জারি করা হলো।
হুথিদের দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান গত পাঁচদিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে গোষ্ঠীটি। হুথিরা জানিয়েছে, ওই বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, তিন শহরে এসব হামলায় মোট ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছে। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার জবাব ‘দায়িত্বশীল ও দৃঢ়ভাবে’ দেয়া হবে।
হুথিরা পরে অভিযোগ করে সৌদি আরব ইয়েমেনে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় লাহিজ, তায়েজ, আল-জাওফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশে মোট ৫৪টি বিমান হামলা হয়েছে। তায়েজ প্রদেশের খাদির জেলার সরকারি কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানিয়েছেন, তায়েজ প্রদেশে সৌদি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরো দুজন আহত হয়েছেন। হুথি সমর্থিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তায়েজের ধুবাব ও মাকবানাহ জেলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌদি আরব এ দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ইয়েমেনে হামলার জন্য সৌদি আরব খামিস মুশাইত ও তায়েফের বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৫ ও
টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। সৌদি হামলা অব্যাহত থাকলে আরো পাল্টা হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি এ হামলার মধ্যেই পশ্চিম ইয়েমেনে সামরিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছেছে।
হুথি ও ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপ এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের মাইয়ুন দ্বীপও এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের নতুন সংঘাত লোহিত সাগরের নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। খবর আল জাজিরা ও এপি










