মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতেই তীব্র সমালোচনায় মুখর হলেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সাদিক খান সরাসরি কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ট্রাম্পের প্রতি আরো কঠোর অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সামরিক বাহিনীর ব্যবহার এবং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে নেয়া পদক্ষেপগুলো স্বৈরাচারের কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের নেতাদের উচিত ভয় আর বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করা।
এদিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর ঘিরে কিয়ার স্টারমারের সরকারও চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক মওকুফের সম্ভাব্য চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে। এতে স্টারমারের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবিও দুর্বল হলো।
ট্রাম্প বুধবার উইন্ডসর ক্যাসলে রাজপরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন, আর বৃহস্পতিবার চেকার্সে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফর ঘিরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা থাকলেও ট্রাম্পের ব্যস্ত সূচির কারণে সরাসরি সেগুলো তার চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার সমালোচনা করেছেন সাদিক খান। ছবি- রয়টার্স
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাদিক খান বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বাস্তব কারণগুলো তিনি বোঝেন। তবে এমন একজন নেতাকে সমালোচনা করার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ভয় পাওয়া উচিত নয়, যিনি তার মিত্রদের সঙ্গে মিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টিকারী, উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে সবচেয়ে বেশি উসকে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের বিভিন্ন শহরে সামরিক বাহিনীর ব্যবহার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই কিছু আমেরিকান নাগরিককে নির্বাসিত করার কঠোর নিন্দা জানান সাদিক খান। তিনি বলেন, এ কাজগুলো শুধু পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক নয়, এগুলো সরাসরি স্বৈরাচারের কৌশল থেকে এসেছে।
খান আরো বলেন, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকার মধ্যে তথাকথিত বিশেষ সম্পর্ক মানে একে অপরের সঙ্গে খোলাখুলি এবং সৎ থাকা। মাঝে মাঝে এর মানে হলো সমালোচনামূলক বন্ধু হওয়া এবং ক্ষমতার সামনে সত্য কথা বলা। এর মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, যুক্তরাজ্য ভয় ও বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে।










