‘ই–৪বি নাইটওয়াচ’ সাধারণ কোনো ভিআইপি প্লেন নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল এয়ারবোর্ন অপারেশনস সেন্টার’ ধারণার অংশ। অর্থাৎ সংকটে যখন স্থলভিত্তিক কমান্ড সেন্টার ঝুঁকিতে পড়ে, তখন জাতীয় নেতৃত্ব যেন আকাশ থেকেই নির্দেশনা, যোগাযোগ এবং সামরিক সমন্বয় চালিয়ে যেতে পারে। এ কারণেই গণমাধ্যমে একে প্রায়ই ‘ডুমসডে প্লেন’ বলা হয়। এ বিশাল উড়োজাহাজ সম্প্রতি দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এরপরই চারদিকে হইচই পড়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডুমসডে প্লেন’কে ঠিক তখনই ‘আসন্ন মহাযুদ্ধের’ আলামত বানিয়ে ফেলে। চারদিকে প্রশ্ন ’যুদ্ধ কি আসছে?’, ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা?’, ‘নিউক্লিয়ার সংকেত?;—ইত্যাদি । পরে জানা গেল, এ ফ্লাইট ছিল মূলত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সফরসূচির অংশ। খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ল্যাক্সে ওই ই–৪বি অবতরণ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডানপন্থী অনলাইন ব্যক্তিত্ব লরা লুমারও। তিনি ছবি পোস্ট করে ঘটনাটিকে আরো ভাইরাল করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, হেগসেথ তখন ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ নামে একটি সফরে ছিলেন। যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ উৎসাহিত করা।
এ বিমানের চলাচল ঘিরে সন্দেহ–উৎকণ্ঠা তৈরির আরেকটা কারণ টাইমিং। গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ অভিযান চালিয়েছে— তার রেশ তখনও তাজা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ই–৪বি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও একাধিক জায়গায় গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ফ্লাইটের উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলে না। সে নীরবতাই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্য দারুণ জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।










