লাইসেন্স না থাকায় পাপুয়া নিউ গিনিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী স্টারলিংকের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে দেশটির সরকার। এর জেরে দেশটিতে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রত্যন্ত এলাকার জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।

ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বিশ্বের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পাপুয়া নিউ গিনির জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ (নিকটা) জানায়, দেশটিতে পরিচালনার জন্য স্টারলিংকের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।

নিকটার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী লুমে পলুমে বলেন, স্টারলিংক বর্তমানে পাপুয়া নিউ গিনিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেবা চালু রাখা যাবে না।

নিকটা জানিয়েছে, লাইসেন্স দেয়া হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে তারা এখন দেশটির আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও স্টারলিংক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গ্রাহকদের পাঠানো এক ইমেইলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে তারা আবার পাপুয়া নিউ গিনিতে ইন্টারনেট সেবা দিতে আগ্রহী।

পাপুয়া নিউ গিনিতে কতজন স্টারলিংক ব্যবহার করতেন সে বিষয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকদের ধারণা, বন্ধ হওয়ার আগে স্টারলিংকের টার্মিনালের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরো গ্রাম বা প্রত্যন্ত জেলা এ সেবার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোয় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক অস্থিতিশীল বা একেবারেই নেই, সেখানে স্টারলিংক ছিল প্রধান ভরসা। বিকল্প স্যাটেলাইট সেবা থাকলেও সেগুলোর খরচ অনেক বেশি।

এদিকে, স্টারলিংককে আইনগতভাবে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয়ার দাবিতে অনলাইনে একটি পিটিশনে প্রায় ২০০ জন স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্টারলিংকের লাইসেন্স জটিলতা প্রথম নয়। ২০২৪ সালে টোঙ্গা সরকারও লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত স্টারলিংককে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। সে সময় ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল।