ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সাঙ্গারেড্ডিতে অবস্থিত 'সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ' নামে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

এদিকে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি মালিকপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার হায়দ্রাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের ফলে ভবনের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খবর পেয়েই সেখানে অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা।

নারায়ণ রাও নামে তেলেঙ্গানা অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিক্রিয়া পরিষেবার এক সদস্য জানান, পুরো ভবনটি ধসে পরেছে। আমরা এখনো ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছি। সবটা সরাতে পারলেই তবে বোঝা যাবে, সেখানে আরো কেউ জীবিত বা মৃত অবস্থায় আছে কিনা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে আছে বাঁকানো লোহার স্তূপ।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় কারখানায় ১৪৩ জন কর্মী ছিলেন। এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

চন্দন নামে ওই কারখানার এক শ্রমিক বলেন, আমি রেস্টরুম ব্যবহারের জন্য কারখানার বাইরে আসি। এরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ শুনতে পাই। যেন শক্তিশালী কোনো বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। তখন বাইরে এসে দেখি আগুন জ্বলছে এবং আমার দিকে তা ছড়িয়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি দেয়াল টপকে পালিয়ে যাই।

এ প্রতিষ্ঠানটি মূলত ওষুধ, খাদ্য, কসমেটিকস ও রাসায়নিক শিল্পে উপকরণ সরবরাহ করত। তাদের এই কারখানায় মেডিসিন তৈরির উপাদান তৈরি করা হত।

কারখানার মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।