কয়েক দশক ধরেই নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত। প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই মূলত সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছিল দেশটি। তবে সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে নয়া দিল্লি। খবর এপি।

বিশেষ করে সম্প্রতি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুথিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে ভারতকে। 

হামাসের সঙ্গে সংহতির অংশ হিসেবে হুথিরা গত নভেম্বরে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক রুটে জাহাজে হামলা শুরু করে। ওই সময় থেকে লোহিত সাগরে ভারতের তিনটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছিল।

‘এর মাধ্যমে আসলে ভারত নিজেদের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের সক্রিয় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়’—বলছিলেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ-কমান্ডের সাবেক প্রধান অনীল কুমার চাওলা। 

তার মতে, ‘এটা শুধু ভারতের পরোপকার নয়। আসল সত্য হচ্ছে নৌশক্তি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হলে আপনি কখনই বৈশ্বিক পরাশক্তি হতে পারবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা চীনের উদ্দেশে একটি বার্তাও যে আমরা জলসীমায় এ বিশাল বাহিনী মোতায়েন করতে পারি।’ 

লোহিত সাগরে ভারত এখন পর্যন্ত চারটি জাহাজকে সহায়তা করেছে, যার মধ্যে তিনটি হুথিদের হামলার শিকার হয়েছে। আরেকটি জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে ওয়াশিংটন। যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ফেলো দর্শনা এম বরুয়ার জানান, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের নৌশক্তির এমন ব্যবহার আগে কখনো দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ চীনের বড় ভূমিকা রয়েছে। 

গত কয়েক দশকে ভারতীয় মহাসাগরে নিজের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে চীন, যা ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

চীনের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌশক্তি, যা ভারতের নৌবাহিনীর প্রায় তিন গুণ। চীনের সঙ্গে এ প্রতিযোগিতায় আরো আধুনিক এয়ারক্রাফট ও সাবমেরিন নিজেদের বহরে যুক্ত করছে ভারত। এমনকি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়ার সংখ্যাও বাড়িয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি. এস হুদা বলছিলেন, ভারত মহাসাগরে আরো বেশি করে নৌঘাঁটি গড়ে তুলছে চীন। ফলে নৌশক্তি বাড়ানো ছাড়া ভারতের হাতে আর তেমন কোনো বিকল্প নেই। 

তবে ভারত এখনই নৌশক্তিতে চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনীল কুমার চাওলা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি যদি নৌযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসে, ভারতের আসলে সে সক্ষমতা নেই।’