শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন কন্টেন্ট থেকে রক্ষা করতে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটককে বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশেটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল টিকটকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাদের বর্তমান প্রচেষ্টা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, আমি টিকটকের ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়ে সন্তুষ্ট নই। বয়স যাচাইয়ের কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে টিকটক, মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) এবং পুলিশ একযোগে কাজ করবে। খবর রয়টার্স।

মালয়েশিয়ায় অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সরকার এ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধরনের কনটেন্টের মধ্যে রয়েছে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, শিশু পর্নোগ্রাফি ও চাইল্ড গ্রুমিং, সাইবারবুলিং এবং জাতি, ধর্ম ও রাজতন্ত্র সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে ৮০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী থাকা প্ল্যাটফর্ম ও মেসেজিং সেবাগুলোকে লাইসেন্স করতে হবে।

ফাদজিল বলেন, টিকটকের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও নিয়মিত তদারকি করা হবে। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য বড় প্ল্যাটফর্ম যেমন এক্স ও মেটা (যার অধীনে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম) থেকেও প্রতিনিধিদের ডেকে এই ধরনের আলোচনার আয়োজন করা হবে।

বিশ্বব্যাপী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়া গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ডেনমার্ক ও গ্রীসসহ কিছু দেশ বয়স যাচাই অ্যাপের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করছে। যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে পর্নোগ্রাফিসহ অন্য ক্ষতিকর কন্টেন্টের সাইটে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে।

মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি টিকটকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা দলকে ডাকা হয়েছিল ভুল তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ও পুলিশের তদন্তে বিলম্বের কারণে। ফাহমি ফাদজিল অভিযোগ করেছেন, টিকটক সঠিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি নিজে টিকটকের সিইওকে ফোন করে কার্যক্রম দ্রুত করতে বলেছিলেন।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন আরো কঠোরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর নজরদারি করছে। ফাহমি জানান, আইন না মানলে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। অনলাইন ক্ষতিকর কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের পদক্ষেপ অন্য দেশের জন্যও দিকনির্দেশনা হতে পারে।