গ্রেফতারি
পরোয়ানা চাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরদের তীব্র নিন্দা
করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও আইসিসির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল
ও হামাস সমান নয়।’ খবর বিবিসি।
গত সোমবার (২০ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাস নেতা ইয়াহিয়া
সিনওয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
(আইসিসি)। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা ও এর জেরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটন এবং
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে। আইসিসির
প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান এ তথ্য জানান।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গণতান্ত্রিক ইসরায়েলকে ‘গণহত্যাকারী’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা আমি ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছি।
আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বলেছেন, নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী এবং তা বিশ্বাস করার জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
গাজায় হামাসের নেতা
ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য পরোয়ানাও চাইছে আইসিসি। তবে ইসরায়েল
ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।
বাইডেন আরো বলেন, ইসরায়েল বেসামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও একই বার্তা দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপকে মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বলেন, এটা লজ্জাজনক। এ বিষয়ে আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই।
ব্লিঙ্কেন আরো পরামর্শ দিয়েছেন যে গ্রেফতারি পরোয়ানার অনুরোধ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের অনাহারে রাখা, হত্যা, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালানো এবং নির্মূল করার মতো অপরাধের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে।
আইসিসি সোমবার জানায়, তারা অনেক চেষ্টা করেও ইসরায়েলে অভিযুক্ত অপরাধ বা তদন্তাধীন ব্যক্তিদের থামানোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে এমন কোনো তথ্য পায়নি।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এ
আবেদনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির বিচারকদের একটি প্যানেল সিদ্ধান্ত
দেবে। করিম খান জানান, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনায়
সিনওয়ার, হানিয়া ও দায়েফের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ,
হত্যা, লোকজন জিম্মি হিসেবে নেয়া, ধর্ষণ এবং বন্দীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।










