ইসরায়েলের সর্ব উত্তরের শহর মেতুলা।
তিন দিক থেকে লেবানন বেষ্টিত এ শহরটি একরকম নিঃসঙ্গভাবে পাহারা দিচ্ছে ইসরায়েলি সীমান্তরক্ষীরা।
অর্থাৎ ইসরায়েলের এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হুমকি তেহরান-সমর্থিত লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেতুলা সীমান্তের এক সীমান্তরক্ষী তার আঙ্গুল দিয়ে হিজবুল্লাহর
অবস্থান নির্দেশ করছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা তিন দিক থেকে হিজবুল্লাহর নজরে রয়েছি
এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সীমান্তরক্ষীর
বরাতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিট্রিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের
এই শহরটি পশ্চিমে এক চুতার্থাংশ, উত্তরে আধা মাইল এবং পূবে আধা মাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ
গোষ্ঠীর নজরে রয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায়
প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারান। পরে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল।
যাতে ২৭ হাজারের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
তথ্যমতে, এসব নিহতের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ধ্বংসস্তূপে
পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই দেশটির
মেতুলা সীমান্তে সৈন্য জমায়েত করে হিজবুল্লাহ। পরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ইসরায়েল।
তবে এই সীমান্তে চূড়ান্ত যুদ্ধের পক্ষে নন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কারণ এ অঞ্চলের সীমান্তরক্ষীরা
জানেন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো মানে তাদের এখানে বৃহৎ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে
পড়তে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সীমান্তরক্ষী
জানিয়েছেন, আমরা জানি হিজবুল্লাহ হামাসের চেয়ে বেশ আধুনিক এবং শক্তিশালী বাহিনী। হামাসের
চেয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বেশি। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ লেবাননের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের
শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
এছাড়া হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের
সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ওয়াশিংটনেরও মাথা ব্যাথার কারণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
হামাস-ইসরায়েল সংঘাত যদি আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এই যুদ্ধে ইরানও জড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই মেতুলা সীমান্তে ইসরায়েলের জন্য হিজবুল্লাহ বড় ধরনের বিপদ বলে মনে করা হচ্ছে।










