মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলা, ভারতের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল হিসেবে যার পরিচিতি। দারিদ্র্য, পানির অভাব আর বেকারত্ব সেখানে মানুষের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই রুক্ষ মাটির নিচেই লুকিয়ে আছে অমূল্য রত্ন। আর সেই রত্নই এবার বদলে দিল দুই বাল্যবন্ধুর ভাগ্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বংশপরম্পরায় চলে আসা সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে সতিশ খাটিক ও সাজিদ মোহাম্মদ খুঁজে পেয়েছেন একটি ১৫ দশমিক ৩৪ ক্যারেটের ঝকঝকে হীরা।
পেশায় মাংস বিক্রেতা ২৪ বছর বয়সী সতিশ এবং ফল বিক্রেতা ২৩ বছর বয়সী সাজিদ গত ১৯ নভেম্বর সরকারিভাবে একটি ছোট জমি লিজ নিয়েছিলেন। পেশার খাতিরে সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সন্ধ্যার পর তারা চলে যেতেন সেই জমিতে। চালনি দিয়ে মাটি ছেঁকে, ধুয়ে রোদে শুকিয়ে হাজার হাজার নুড়ি পাথরের মধ্যে চলত তাদের স্বপ্নের খোঁজ।
বংশপরম্পরায় কয়েক দশকের ব্যর্থতার পর অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সাজিদ জানান, তার বাবা এবং দাদাও কয়েক দশক ধরে এই মাটিতেই হীরা খুঁজেছেন, কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। সাজিদের বাবা নাফিস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘দীর্ঘ পরিশ্রম আর ধৈর্যের ফল ঈশ্বর অবশেষে দিয়েছেন।‘

সতিশ খাটিক (ডানে) ও সাজিদ মোহাম্মদ। ছবি- অমিত রাঠোর
প্রথমে সেটিকে সাধারণ পাথর ভেবেই তুলে নিলেও, পরে সেটি সরকারি হীরা মূল্যায়কের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়—এটি একটি ১৫ দশমিক ৩৪ ক্যারেটের জেম-কোয়ালিটির প্রাকৃতিক হীরা। এই শ্রেণি বিশ্বের সেরা মানের হীরার মধ্যে পড়ে।
শহরের সরকারি হীরা মূল্যায়নকারী অনুপম সিং জানিয়েছেন, পাথরটি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপি (৫৫ থেকে ৬৬ হাজার ডলার)। তিনি বলেন, ‘এটি নিখুঁত মানের একটি প্রাকৃতিক হীরা। শিগগিরই সরকারি নিলামে এটি তোলা হবে, যেখানে দেশী-বিদেশী বড় বড় ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন।‘ র্যাপাপোর্ট রিপোর্টের মানদণ্ড অনুযায়ী এই হীরার চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে।
হীরা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এত অর্থ হাতে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হলেও পা মাটিতেই রাখছেন এই দুই বন্ধু। কোনো জৌলুস বা বড় ব্যবসায় বিনিয়োগের আগে তারা একটি সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে চান।
আনন্দে আত্মহারা দুই বন্ধু বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের বোনদের বিয়ে দিতে পারব। আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, এই হীরা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।‘















