যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার থেকে তেহরানের সাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল এয়ারফোর্স ওয়ান জেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য দেন তিনি। খবর বিবিসি।
ট্রাম্প বলেন, ‘কত বড় হামলা হতে যাচ্ছিল তা তারা জানত, কারণ তারা এর প্রস্তুতি দেখছিল। আমরা এখন তাদের সাথে আলোচনার কথা বলছি। যেটি আগামীকাল (সোমবার) বিকাল থেকে শুরু হবে।’
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি সমঝোতার ‘মানদণ্ডের বিষয়ে’ উভয় পক্ষ একমত হওয়ায় ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবারই বলে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটার খুব কাছাকাছি তারা পৌঁছে গেছেন। কিন্তু এরপরই আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হতে দেখা গেছে।
এয়ারফোর্স ওয়ানে এ আলাপের সময় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। আমরা যেকোনো সময় প্রস্তুত আছি... আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরো জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাতারের মতো মার্কিন মিত্ররা সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনিবার বা রবিবারে তাকে হামলা না চালাতে অনুরোধ করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা অনুরোধ করার কারণ হলো, তারা ভেবেছে একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতেও একটি চুক্তি হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আজ সকালে এশিয়ার বাজারসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলার ৯৮ সেন্টে নেমে আসে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়ায়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিত রাখার বিষয়ে তেহরানের অনুরোধ জানানোর দাবিটি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের এ দাবি ‘নতুন একটি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ‘চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে’ বলে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সোমবারের এই আলোচনার স্থান কিংবা কারা এতে অংশ নেবেন সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোয় হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরও দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু করা হলে সেটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
এর আগে, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে আল-রেজা বলেন, তেহরান তাদের শত্রুপক্ষের প্রতিটি হুমকিকে ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবেই দেখে, এমনকি এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অংশ হলেও।’
এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানকে চরম ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কিন্তু পরে আবার কূটনীতিকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জোরালো দাবি করেছিলেন।










