ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউ’ থেকে হঠাৎ তীব্র অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট ছয়টি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে তিন শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা ও ছাইয়ের আস্তরণ, যার ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও জেলেদের মাছ ধরার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
দেশের আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, বাতাসে ভেসে থাকা ছাইয়ের মেঘ জাভা দ্বীপের দিকে ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ছাইয়ের আস্তরণে ঢাকা পড়েছে বানতেন প্রদেশের বিশাল এলাকা।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটিতে গত শুক্রবার রাত থেকেই থেমে থেমে বিস্ফোরণ শুরু হয়। রোববার ভোরের দিকে আগ্নেয়গিরির ছাই বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে জাকার্তা বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছায়।
জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রানওয়ে ও আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়। বিমানবন্দর পরিচালনা সংস্থা ‘অ্যাংকাসা পুরা’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ৫৮টি আন্তর্জাতিকসহ মোট ৩০১টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো রোববারের জাকার্তাগামী সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। বিমানবন্দরে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী
পরিস্থিতি মোকাবেলায় আকাশে ছাইয়ের মাত্রা কমাতে ও বাতাস পরিষ্কার করতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের (ক্লাউড সিডিং) উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় সামাল দিতে জাভা দ্বীপের আরো তিনটি বিমানবন্দর—কের্তাজতি, আহমেদ ইয়ানি এবং জুয়ান্দাকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে এয়ারলাইনগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট ঘুরিয়ে নিতে পারে।
জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছাইয়ের কারণে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে অ্যালার্জি ও জ্বালা-পোড়া শুরু হওয়ায় শনিবার থেকেই বেশ কিছু স্কুলে পাঠদান স্থগিত করা হয় এবং জেলেরা সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ রাখেন।
এদিকে, আনাক ক্রাকাতাউ থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব জাভার ‘মাউন্ট সেমেরু’ আগ্নেয়গিরিও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেমেরু থেকে ১ কিলোমিটার উঁচুতে ছাইয়ের কুণ্ডলী উঠছে দেখে আশপাশের বাসিন্দাদের ৫ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা পিভিএমবিজি।
ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের বিপজ্জনক 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত নিত্যদিনের ঘটনা। বর্তমানে আনাক ক্রাকাতাউ ও সেমেরুসহ দেশটির পাঁচটি আগ্নেয়গিরি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বা 'লেভেল-৩' সতর্কবার্তায় রয়েছে। তবে এ অগ্ন্যুৎপাত থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই বলে স্পষ্ট করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।









