যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমরা এ বছর এক উদ্বেগজনক ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত করছেন। সাধারণত রমজান মানেই আনন্দ, জামাতে নামাজ এবং ইফতার মাহফিলের উৎসব। কিন্তু এ বছর ফেডারেল সরকারের অভিবাসন কড়াকড়ি, ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নিউ জার্সি থেকে মিনেসোটা—সবখানেই মুসলিমদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর এপি।

নিউ জার্সির প্যাটারসন শহরে বিপুল সংখ্যক মুসলিমের বসবাস। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা আইসিই-এর অভিযানের ভয়ে অনেকেই মসজিদে বা বড় কোনো জমায়েতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ১৮ বছর বয়সী হানি আলতিয়াত জানান, রমজান মানেই আপনজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া। কিন্তু বর্তমানে ধরপাকড়ের আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। ফলে রমজানের সেই চিরচেনা আমেজ এবার ম্লান হয়ে গেছে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। সেখানে বড় ধরনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে অনেক মুসলিম পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার নির্বাহী পরিচালক ইমাম ইউসুফ আবদুল্লাহ জানান, অনেক মসজিদে ইফতারের বড় আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব ইফতারের স্পন্সর করতেন। কিন্তু বর্তমানে কড়াকড়ির কারণে মানুষ বাইরে কম আসায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। ফলে ইফতারের আয়োজনে এখন শুধু খেজুর ও পানি দেয়া হচ্ছে।

দেশের ভেতরে এই সমস্যার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি মুসলিমদের মনে নতুন দুশ্চিন্তা যোগ করেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় প্যাটারসনের ফিলিস্তিনি ও আরব বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এর আগে গাজা যুদ্ধ নিয়ে তারা এমনিতেই শোকাতুর ছিলেন, এখন নতুন যুদ্ধ তাদের জন্য আরো মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী বছর হওয়ায় রাজনৈতিক প্রচারণায় মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) জানিয়েছে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কিছু রাজনীতিবিদ মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক জায়গায় সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে এবং মসজিদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এ বছর রমজান অতিবাহিত করছেন আমেরিকার মুসলিমরা।