যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একে ‘বিস্ময়কর সাফল্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
যুক্তরাষ্ট্র যেসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইরানের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোর্দো। তবে ইরানি পার্লামেন্টের এক সদস্য দাবি করেছেন, সেখানে গঠনগতভাবে গুরুতর কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্য বলছে, হামলার ফলে পারমাণবিক উপাদান ছড়িয়ে পড়েনি বা তেজস্ক্রিয়তার কোনো মারাত্মক প্রভাব দেখা যায়নি। এতে ইঙ্গিত মিলছে, ইরানি কর্মকর্তারা হয়তো আগেই ওইসব স্থাপনা থেকে মজুতকৃত ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলেছিলেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা যদি সম্পূর্ণ ধ্বংসও হয়ে থাকে, তবু ইরানের হাতে এখনো প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা আছে। ফলে দেশটি চাইলে ভবিষ্যতে আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের এমন কিছু গোপন সুবিধাও থাকতে পারে যা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং এখনো সচল রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি মতো সত্যিই যদি এই হামলা সামরিকভাবে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে থাকে, তাহলে এটা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পেছনে ঠেলে দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আল জাজিরা অবলম্বনে















