চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফের একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। মাত্র দুদিন আগে চীন ও কোরিয়া উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত পীত সাগরে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশটি। খবর আল জাজিরা।

এদিকে ধারাবাহিক এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ফলে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। উত্তর কোরিয়া অস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

গত বুধবার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পুলওয়াসাল-৩-৩১ পরীক্ষা চালানোর পর নতুন করে আবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল পিয়ংইয়ং। দেশটি জানিয়েছে, নতুনভাবে পরীক্ষা চালানো ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ গতকাল এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় উত্তর কোরিয়ার সিনপো এলাকায় বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি ও কার্যকলাপও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র পরীক্ষার মাত্রা বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরই মধ্যে পানির নিচে পারমাণবিক অস্ত্র এবং কঠিন-জ্বালানিযুক্ত হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাসহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের বর্তমান নিষেধাজ্ঞার অধীনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধ নয়। গত সপ্তাহের শেষের দিকে পিয়ংইয়ং বলেছে, নতুন প্রজন্মের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। এভাবে অস্ত্র পরীক্ষা চলতে থাকলে ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিওর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞা ও নিন্দা সত্ত্বেও নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছেন কিম জং-উন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই শক্তিশালী হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রাগার।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চলতি মাসের শুরুর দিকে বলেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া তার দেশের ‘‌প্রধান শত্রু’। ফলে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন আর সম্ভব নয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, পরীক্ষাটি অস্ত্র ব্যবস্থা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া মাত্র। এটি একটি ধারাবাহিক কাজ। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। 

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ পরীক্ষায় প্রতিবেশী দেশের কোনো ক্ষতি হবে না। তাছাড়া এটির সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।