সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আজ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত আঞ্চলিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
এমন এক সময়ে এ চুক্তি হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সুন্নি মুসলিম শক্তির মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। তবে চুক্তির আওতায় প্রতিটি দেশ ঠিক কী ধরনের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি দেবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা চুক্তি সই হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল রফতানিকারক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম দেশ।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চুক্তি সইয়ের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের জেদ্দায় যাবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে তারা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। গত জানুয়ারিতে রয়টার্স আলোচনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-ঝুঁকি সামনে এনেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত জানুয়ারিতে বলেছিলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে আরো বিস্তৃত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে আঙ্কারা।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে আগে থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে ‘সব ধরনের সামরিক উপায়’ ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে এর আগে রয়টার্সকে এক সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সৌদি সরকারের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।










