লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বৈরুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অবশ্য চুক্তির পরও হামলা থামায়নি দুই পক্ষ, এখন দেশটির রাজধানীতে হামলার নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েতে আঘাত হানে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকাটি হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বড় অগ্নিকাণ্ড এবং অন্তত একটি ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। তার দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান ফোর্সের এক কমান্ডার।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টার দিকে ওই ইউনিটের সদস্যরা বৈঠকে বসেছিল, তখনই হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। এর পর থেকে দাহিয়েতে এটিই প্রথম হামলা।

তবে ওই চুক্তির পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই দেশজুড়ে এসব হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে হিসাব দেয় না।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ এখনো দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাদের লক্ষ্য হলো ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করা, যাতে উত্তরাঞ্চলের ইসরায়েলি বসতিগুলো সুরক্ষিত থাকে।

এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে, যার সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের মিল রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহও রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা এবং উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সরাসরি অংশ না নিলেও, শুরুতে হিজবুল্লাহ ইঙ্গিত দিয়েছিল—ইসরায়েল চুক্তি মেনে চললে তারাও তা মেনে চলবে।

একসময় প্রাণচঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত দাহিয়ে যুদ্ধবিরতির পরও প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। বাসিন্দারা বলছেন, ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় তারা এখনো বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, যাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে তিনি ইসরায়েলি বসতিতে হামলা এবং ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীই নিরাপদ নয়। ইসরায়েলের দীর্ঘ হাত প্রতিটি শত্রু ও হত্যাকারীর কাছ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।’

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১৬ সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে আরো দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।