গাজার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বৈত হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য কাজ করা পাঁচজন সাংবাদিক। এই ভয়াবহ হামলায় চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন। হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং নিহত সাংবাদিকদের কর্মস্থলগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।
হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথম হামলার পর সেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছলে দ্বিতীয় দফায় আবারো হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাহত হয় উদ্ধার তৎপরতা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে একটি ‘দুঃখজনক দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনায় রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা এবং মিডল ইস্ট আই-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি এবং এপির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মরিয়ম দাগ্গা অন্যতম। নিহত অন্যান্য সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আল জাজিরার মোহাম্মদ সালামা, মিডল ইস্ট আই-এর আহমেদ আবু আজিজ এবং ফটোগ্রাফার মোয়াজ আবু তাহা।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) মতে, গাজার এই যুদ্ধ সাংবাদিকদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, তিনি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫৮ জনের মৃতদেহ গাজার হাসপাতালগুলোতে পৌঁছেছে। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেক মৃতদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণের সময় হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন এবং অপুষ্টিতে মারা গেছেন ১১ জন— যাদের মধ্যে দুজন শিশু।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তাতে এ পর্যন্ত ৬২,৭৪৪ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।















