ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সপ্তম দিনে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নিশ্চিত করেননি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অভিযানে অংশ নেবে কি না। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে। খবর রয়টার্স।
গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহত হয়েছে শত শত মানুষ। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে কমপক্ষে ২৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের আরাক অঞ্চলের খোন্দাব পারমাণবিক চুল্লিতে রাতভর হামলা চালিয়েছে। ওই চুল্লিটি এখনো নির্মাণাধীন একটি হেভি-ওয়াটার রিসার্চ রিঅ্যাক্টর। হেভি-ওয়াটার চুল্লিগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম হওয়ায় এগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, চুল্লির আশপাশে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে ফেলা হয়েছিল এবং তেজস্ক্রিয়তার কোনো ঝুঁকি নেই।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরো জানায়, তারা নাতাঞ্জ এলাকার একটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। সেখানে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ছিল।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবহুল এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে। দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালেও সরাসরি আঘাতের ঘটনা ঘটে বলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান।
তেল আবিবের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। সে সঙ্গে, সকাল থেকে শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, তেল আবিবের মধ্যাঞ্চলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানের হামলায় পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তিনটি পৃথক স্থানে আহতের সংখ্যা অন্তত ডজনখানেক। দক্ষিণ তেল আবিবের একটি ভবনে অনেকে এখনো আটকা পড়ে আছেন।
তেল আবিবের রামাত গানে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা শিশুসহ সাধারণ বাসিন্দাদের সাহায্য করছে। বিরশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা হাসপাতালের কাছে থাকা ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘কেউই জানে না আমি কী করব।‘
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেননি শুক্রবারের পর এই প্রথম টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ অবশ্যই অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। ইরানি জাতি আত্মসমর্পণ করবে না।‘















