ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণের (অ্যানেক্সেশন) তৎপরতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর সানা ।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইন বৈঠকে আন্তোনিও গুতেরেস এসব কথা বলেন। কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের আয়োজনে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব জেরুজালেমকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী করার প্রস্তাব করেন।
গুতেরেস বলেন, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ‘পদ্ধতিগতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে’। তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, নতুন বসতি স্থাপন এবং বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) সহিংসতা পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলাও এর অন্তর্ভুক্ত।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। এর ভিত্তি হবে ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে গুতেরেস চারটি প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো—ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা, ভূখণ্ড সংযুক্তীকরণ ঠেকানো, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন ও দখলদারত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যারা নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি বসবাস করবে। এ রাষ্ট্রগুলোর সীমানা হবে ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে এবং জেরুজালেম হবে উভয় রাষ্ট্রের রাজধানী।
তিনি বলেন, ‘এর কোনো বিকল্প নেই। আর সময় ফুরিয়ে আসছে।’










