হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের পর ঘরবাড়ি হারিয়ে
ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে গাজার বাসিন্দারা। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রতিশোধমূলক
আকাশ ও স্থল হামলা শুরু করে তেল আবিব। এতে উপত্যকাটির অর্ধেকেরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে
গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিবিসির
এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত বছরের
ডিসেম্বর থেকে গাজায় আইডিএফের গোলা বর্ষণ আরো জোরদার করা হয়। তাতে প্রায় ধ্বংসস্তূপে
পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এবং মধ্য গাজার বসত বাড়িসহ হাসপাতাল, স্কুল এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ।
সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজাবাসীকে নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বলে ইসরায়েলি
বাহিনী। তবে গাজার দক্ষিণে আশ্রয় নিয়েও নিস্তার পায়নি উপত্যকাটির বেসামরিক বাসিন্দারা।
তাদের ঘরবাড়িসহ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হামলা আরো তীব্র করেছে আইডিএফ।
গণমাধ্যমটি স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত
সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোলা বর্ষণে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে
গাজার প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার স্থাপনা। যা পুরো গাজার ৫০ থেকে ৬১ শতাংশ।
নিউইয়র্ক সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরি
শের এবং ওরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যামন ভ্যান ডেন হোয়েক এই তথ্য বিশ্লেষণি প্রকাশ
করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গাজার স্থাপনাগুলোর উচ্চতা বা কাঠামোর আকস্মিক পরিবর্তন স্থাপনাগুলোর
ধ্বংস হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার প্রায় ৮০
শতাংশ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়া করেছে ইসরায়েল। যাদের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা আটকা পড়েছে
দক্ষিণ গাজায়। হামাস নিধনের নামে বেসামরিকদের উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর
বাহিনী। তেল আবিবের লাগাতার বোমা বর্ষণে ধ্বংস হয়েছে বসতি-স্থাপনা, শপিংমল, শিক্ষাকেন্দ্র,
হাসপাতালসহ আবাদি জমিও।
উপত্যকাটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের
অন্তত ৩৮ হাজার বা ৪৬ শতাংশ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। গত কয়েক দিনে এই
শহরের অন্তত দেড় হাজার ভবনকে লক্ষ্য করে বোমা বর্ষন করেছে আইডিএফ।










