সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, আয়ভেদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষই অর্থনৈতিক চাপের শিকার হচ্ছেন। যা প্রভাব ফেলছে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, এমনকি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায়। ঘুমের সমস্যা থেকে শুরু করে আলসারসহ নানান স্বাস্থ্য সমস্যাতেও ভুগছেন অনেকে। সেজন্যেই অর্থনীতিবিদ ও থেরাপিস্টরা মনে করেন, সুস্থ আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলার পূর্বশর্ত মানসিকভাবে স্বচ্ছতার চর্চা।
অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা ও ‘দ্য পাওয়ার অব এনাফ’ বইয়ের লেখক এলিজাবেথ হাসারল বলেন, ‘ভয় আর লজ্জা—এই দুটি হলো খারাপ পরামর্শদাতা। মানসিক স্বচ্ছতাই অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এনে দেয়।’ একই সঙ্গে ফিন্যান্সিয়াল থেরাপিস্ট ড. মেগান ম্যাককয় যোগ করেন, ‘অভাবি মানসিকতা আমাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী করে তোলে, ফলে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য চিন্তা করা কঠিন হয়ে যায়।’
এই 'ঘাটতির মানসিকতা' সাধারণত কারো ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক ইতিহাস থেকে জন্ম নেয়। শৈশব থেকেই যার ভিত্তি গড়ে ওঠে। যেমন, চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর সঞ্চয়হীন অবস্থায় থাকা শাওনা হম্বার্ট শেয়ার করেছেন, ‘এসি চালানো বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সব প্রশ্ন নিয়ে যখন দুশ্চিন্তা করতাম, নিজেকে আবার সেই ছোট্ট মেয়েটির মতো মনে হতো।’
এ ধরনের সমস্যার সমাধানে তাই বিশেষজ্ঞরা ‘কঠিন বাজেট নয়, বরং ব্যক্তিগত মূল্যবোধ-ভিত্তিক ব্যয় পরিকল্পনা’ এর কথা বলছেন। হাসারলের মতে, ‘স্বস্তির প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সেই প্রয়োজন পূরণের জন্য অনেক বিকল্প থাকা উচিত। যাতে করে নির্দিষ্ট খরচের সঙ্গে আবার যেন অতিরিক্ত জড়িয়ে না পড়ি।’
ফিনান্সিয়াল ফেমিনিস্ট বইয়ের লেখক টরি ডানল্যাপ নিয়মিত অর্থনৈতিক ‘চেক-ইন’ এবং অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে লজ্জা কাটিয়ে ওঠার কথা বলেন। তার ভাষায়, ‘লজ্জা কোনো অর্থনৈতিক কৌশল নয়।’
সবশেষে, ‘জরুরি ফান্ড’ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। ডানল্যাপের পরামর্শ, ‘যতদূর সম্ভব তিন থেকে ছয় মাসের জীবনধারণের খরচের সমপরিমাণ সঞ্চয় রাখার চেষ্টা করুন। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলেও নিরাশ হবেন না। সামান্য সঞ্চয়ও কিছু না থাকার চেয়ে ভালো।’
অর্থ ও আবেগের দ্বন্দ্ব বুঝে এবং স্থিতিশীল আর্থিক কৌশল তৈরি করে ব্যক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন—তাতেই গড়বে এক নিরাপদ ভবিষ্যৎ—মানসিক ও অর্থনৈতিক, উভয় ক্ষেত্রেই।









