অবসর মানেই শুধু কর্মজীবনের ইতি নয়; বরং জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু। এ সময় অনেকেই নতুন জায়গায় বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। হতে পারে তা নিজ দেশে বা বিদেশে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আবেগের পাশাপাশি দরকার বাস্তবতা যাচাই ও সব দিক বিবেচনার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু, করব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক যোগাযোগ—সবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

যেমন ৬০ বছর বয়সী ডেব্রা টেলর। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেলর অবসরের সঙ্গে সঙ্গে জীবনে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন ও নতুন শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন পর্তুগালের অ্যাভেইরো শহরে। কেন এ সিদ্ধান্ত? ডেব্রা জানালেন, কর নীতিতে সুবিধা, আবহাওয়ার দিক থেকে আরামদায়ক পরিবেশ ও ইউরোপ ভ্রমণের সহজ সুযোগ তাকে টেনেছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তিনি একটি রিলোকেশন কোম্পানির সহায়তায় শহর ঘুরে দেখেছেন, এক বছরের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন, ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন।

অবসর পরবর্তী জীবনে স্থান পরিবর্তনের পেছনে নানা কারণ থাকে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবসরের পর বাসস্থান বদলানো মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হলেও বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাড়িভাড়ার চাপ, স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি সাপোর্ট—এসব বিষয় প্রভাব ফেলে সিদ্ধান্তে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এএআরপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট রডনি হ্যারেল বলেন, ‘আজ আমরা সুস্থ বা সক্রিয় থাকলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই পরিকল্পনায় সেই পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে।’

retirement

চিলির সান্তিয়াগো শহরে ফুটপাথে হাঁটছেন এক দম্পতি, ছবি: এপি

অবসর-পরবর্তী ঠিকানা বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে খরচ, পরিবেশ ও সামাজিক সংযোগের পাশাপাশি পরিবারকেও বিবেচনায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন অবসর পরিকল্পনাবিদ এলিজাবেথ পারসন্স। আবার সম্পদ ব্যবস্থাপক চ্যাড হারমারের মতে, আগে নিজের জীবনযাত্রার ধরন স্পষ্ট করা জরুরি। যেমন প্রতিদিন কেমন সময় কাটাতে চান, কার সঙ্গে দেখা করবেন, পরিবহন বা পরিবারের দূরত্ব কেমন হবে ইত্যাদি। তার ভাষায়, ‘যদি আপনি যে নতুন জায়গায় যেতে চাইছেন, সেখানে আপনার চাওয়া জীবনযাত্রার ধরন বছরের অন্তত ৮০ শতাংশ সময়ে সম্ভব হয়, তবে সেটিই হতে পারে আপনার জন্য সঠিক জায়গা।’

অবসর পরবর্তী নতুন জীবনে যেকোনো সময়ই চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তবে পরিকল্পনা ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে তা হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণামূলক এক যাত্রা। সঠিক জায়গা, সঠিক প্রস্তুতি আর বাস্তবসম্মত প্রত্যাশার সমন্বয়ে কাটতে পারে প্রশান্ত ও পরিপূর্ণ অবসর জীবন।

সূত্র: এপি