বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, এনজিও, ব্যাংক, পোশাক শিল্প, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যদিও এ পেশায় লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা বেশি প্রাধান্য পান

বর্তমানে তরুণদের কাছে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এক কথায় স্মার্ট পেশা হিসেবে পরিচিত। আর গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে এক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ও গুরুত্বও অনেক বেড়েছে। বলাই বাহুল্য, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ওপর। কারণ এ বিভাগ গোটা অফিস নিয়ন্ত্রণ করে। তাই যেসব শিক্ষার্থীর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা রয়েছে, কথাবার্তায় স্মার্ট ও কাজের ক্ষেত্রে গোছানো, তারা সহজেই এ পেশায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারেন।

যারা বিবিএ বা এমবিএ করেন, তাদের মৌলিক কোর্সগুলোর পাশাপাশি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কোর্সটিও পড়ানো হয়। এরপর মেজর নেয়ার সময় কয়েকটি বিভাগের মধ্যে এ বিভাগটিও থাকে। আবার যারা এ পেশার সঙ্গে নিয়োজিত, তাদের কাজের সুবিধার্থে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রফেশনাল মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

 

কাজের ধরন

কোনো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মূলত প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়োগ, বদলি, প্রমোশন, প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কর্মীদের কার্যপরিধি নির্ধারণ, বার্ষিক ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, অবসর ভাতা, বেতন ইত্যাদিরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করে থাকেন।

 

কাজের ক্ষেত্র

বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, এনজিও, ব্যাংক, পোশাক শিল্প, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ খাতে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়। তাই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।&dquote;&dquote;

 

বেতন

যদিও এ পেশায় লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা বেশি প্রাধান্য পান। এ পেশায় একজন কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানভেদে প্রারম্ভিক পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বেতন পান। তবে দ্রুত কাজ শেখার ক্ষমতা থাকলে ও কাজে ভালো করলে দুই বছরের মধ্যে বেতন বেড়ে বেতন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হতে পারে। আর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান হলে বেতন হতে পারে সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা।

 

যোগ্যতা

যেকোনো পেশায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে তার ডিগ্রি ও ফলাফলকে গুরুত্ব দেয়া হলেও এগুলোর পাশাপাশি অন্য গুণাবলিও থাকতে হবে; যেগুলো তাকে সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য উপযুক্ত করে তুলতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, ধৈর্য, সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতা ইত্যাদি। এ বিভাগে কাজ করতে হলে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কিত ধারণা, সময়জ্ঞান ও পরিশ্রম করার মনোভাব থাকতে হবে।

 

সূত্র: কলেজগ্রেড