দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সংকটের কারণে চিনি ব্যবহারে কঠোর ‘রেশনিং’ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। আট দশক পর সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রেশনিংয়ের কারণে যেসব শিশু শৈশবে ও মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় কম চিনি গ্রহণ করেছে, পরবর্তী জীবনে তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম।

১৯৪০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে চিনি ব্যবহারের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। ওই সময় শিশু ও গর্ভবতী নারীদের দৈনিক চিনি খাওয়ার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৪০ গ্রাম। এমনকি ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের খাবারে বাড়তি কোনো চিনি যোগ করার সুযোগ ছিল না।

images

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও বোস্টন স্কুল অব মেডিসিন। গবেষক দলটি যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংক থেকে ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া প্রায় ৬৩ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, রেশনিংয়ের সেই নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম দুই বছর চিনির এ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার (রেশন) অধীনে ছিলেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম, স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ কম, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কম আর কার্ডিওভাসকুলার মৃত্যুর ঝুঁকি ২৭ শতাংশ কম।

গবেষকরা আরো জানান, চিনির রেশনিংয়ের দীর্ঘ প্রভাবে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাওয়ায় ওই প্রজন্মের মানুষ অন্যদের চেয়ে গড়ে আড়াই বছর বেশি সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মাতৃগর্ভে আসার পর থেকে জন্মের পরবর্তী দুই বছর—এই মোট ১ হাজার দিনকে বলা হয় পুষ্টির ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’। গবেষণার সিদ্ধান্ত বলছে, এই এক হাজার দিনেই শরীরের কার্ডিওমেটাবলিক রিস্ক বা হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারিত হয়ে যায়।

বর্তমানে অধিকাংশ শিশু ফর্মুলা দুধ, প্যাকেটে ভরা খাবার ও চিনির আধিক্য থাকা খাদ্যশস্যের মাধ্যমে শৈশবেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করছে। যা তাদের শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে চলেছে।

ডেইলি মেইল অবলম্বনে