কভিড-১৯ মহামারির সময় টয়লেট পেপার আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল মানুষ। আবার একই সময়ে ভোগবাদী প্রবণতা থেকে সরে আসছিল অনেকেই। এমনই একজন রেবেকা গুডউইল (৩৫)। ইংল্যান্ডের নরফোকের বাসিন্দা রেবেকা গুডউইল একজন পার্সোনাল ফাইন্যান্স-বিষয়ক লেখক। তার মধ্যে সঞ্চয়ী প্রবণতাকে বাড়িয়ে তোলে বৈশ্বিক মহামারীর প্রাদুর্ভাব। সে সময় জীবনযাপনে রীতিমতো কৃচ্ছ্রসাধন শুরু করে দেন তিনি।

এর সুফলও পেয়েছেন তিনি। ২০২১ সাল থেকে তিনি গড়ে প্রতি মাসে ২ হাজার পাউন্ড (২ হাজার ৬৬০ ডলারের সমপরিমাণ) সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করছেন। বর্তমানে তার বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৫ লাখ পাউন্ডে (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার কাছাকাছি)।

অথচ এক সময় রেবেকা গুডউইলের স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল পোশাকের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয় করা। ফ্যাশন কমিউনিকেশনসের শিক্ষার্থী থাকার সময় থেকেই এ অভ্যাস বয়ে এনেছিলেন তিনি।

রেবেকা গুডউইলের ভাষায়, ‘প্রতি মৌসুমেই আমার পুরো নতুন ওয়ারড্রোব লাগত। এটি এক পর্যায়ে ভীষণ ক্লান্তিকর পর্যায়ে চলে যায়। জীবনের নানা ঘটনাবলীও আমার ব্যয় প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি বড় বড় ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে খরচ বেড়ে যেত। এতে সিদ্ধান্তগুলোও হয়ে উঠত খুব বেশি আবেগতাড়িত।’

কভিডের প্রাদুর্ভাবের পর পোশাকের পাশাপাশি ঘর সাজানোর সামগ্রী ও টিভি সাবস্ক্রিপশনে ব্যয় কমিয়ে দেন রেবেকা গুডউইল। মিনিমালিজমকেই (অপরিহার্য ছাড়া অন্য খাতে না করার প্রবণতা) এখনকার পরিস্থিতির মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। রেবেকা বলেন, ‘এখন বাইরে থেকে আমার জীবন অনেক বেশি সাধারণ মনে হয়। একই পোশাক বারবার পরতে আমি মোটেও ভয় পাই না।’

শুধু রেবেকা গুডউইল নয়, জেন জি ও মিলেনিয়ালদের মধ্যে সার্বিকভাবেই এখন ভোগব্যয় কমিয়ে দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে পিডব্লিউসির এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সংস্থাটির এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী জেন জির সদস্যরা এখন ‘অর্থবহ কেনাকাটার’ দিকে ঝুঁকছেন বেশি। জরিপের আওতাধীন জেন জি প্রজন্মের সদস্যদের ৫১ শতাংশই বাইরে খাওয়া বা টেকঅ্যাওয়ে কমিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ভোগ সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হলেও শুধু এর ওপরে নির্ভর করে থাকলে অর্থনীতির খুব বেশি লাভ হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদে তা চাহিদা মন্দা ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার মতো নতুন দক্ষতা অর্জনই আসল পথ।

মানি কোচ নাতালি স্কটের মতে, ‘তরুণ হিসেবে আমাদের উচিৎ দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেশি বেতনের চাকরির দিকে যাওয়া। মূল্যস্ফীতিকে হারানোর এটিই বড় উপায়।’