সমুদ্রের তলদেশে কী আছে, তা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সে কৌতূহল মেটাতে সমুদ্রের অতল গভীরেও চলে যাচ্ছে মানুষ। কিন্তু কথা হলো যারা সাঁতার জানেন না, তারা কীভাবে দেখবেন সাগরজলের অতিপ্রাকৃত জগৎ! মজার কথা হলো, সাঁতার না জানলেও পানিতে নামা সম্ভব। এজন্য শিখে রাখতে হবে স্কুবা ডাইভিং। যারা অ্যাডভেঞ্চার করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি শেখা দরকার। স্কুবা ডাইভিং হলো ভিন্ন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার, যা আপনাকে নিয়ে যাবে চিরচেনা পৃথিবীর অন্য এক জগতে।
এটা এক ধরনের যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ডাঙার মানুষ পানির নিচে যেতে পারে। ঘুরে বেড়াতে পারে বসবাসকারী মাছের মতো। যান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে উচ্চ চাপের বাতাস বহনকারী একটি সিলিন্ডার, রয়েছে স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নেয়ার সুবিধা। রয়েছে মাছের মতো ভেসে থাকার যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনমতো ডুবে যাওয়া এবং ভেসে থাকার কারিগরি সুবিধা ও তাপমাত্রা অনুকূল পোশাক।
কিন্তু আপনি চাইলেই যে কোনো স্থানে স্কুবা শিখতে পারবেন না। স্কুবা শেখার জন্য একজন দক্ষ এবং লাইসেন্স প্রশিক্ষকের দরকার হয়। দক্ষতার সঙ্গে না শিখলে পানির নিচে যেকোনো মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব দেশেই যে স্কুবা ডাইভিং শেখানো হয় তা কিন্তু নয়। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চল স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য সবচেয়ে আদর্শ ও জনপ্রিয়। এশিয়া অঞ্চলে যারা স্কুবা ডাইভিং শিখতে আগ্রহী, তারা মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে পারেন। তবে আরেকটি বিষয় হলো, কোথায় ভালো স্কুবা ডাইভিং শেখানো হয়, সে সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে অচেনা দেশে গিয়ে যে কেউ বিপদে পড়তে পারেন। যেমন মালদ্বীপে যারা শিখতে যেতে চান তারা ভাভু বা ঢালু প্রবালদ্বীপে শিখতে পারেন। ইন্দোনেশিয়ায় ওয়াকাটবি, বালি ও টোগিয়ান দ্বীপ শেখার জন্য ভালো হবে। থাইল্যান্ডে কোহ টাও, সিমিলিয়ন ও সুরিন দ্বীপের মাঝামাঝি জায়গা শেখার জন্য ভালো। ফিলিপাইনের চিবু সিটি, পালাওয়ান, অক্সিডেন্টাল মিনদোরো ভালো হবে। আপনি প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পাশাপাশি শিখে নিতে পারবেন সাগরতলের ঘোরাঘুরি।
সূত্র: অ্যাডভেঞ্চার ইন ইউ










