উষ্কখুষ্ক ঢেউ খেলানো চুল মাঝে মধ্যে বিপাকেই ফেলে। সবসময় কি আর চিরুনি নিয়ে ছোটা যায়? তাই চুল ও লুক পরিপাটি রাখতে অনেকেই এখন রিবন্ডিং করান। চুল রিবন্ডিং করলে ধকল অনেকটা কমলেও যথেষ্ট পরিমাণে যত্ন না নিলে হতে পারে চুলের নানান ক্ষতি। আবার যদি ভেবে থাকেন যে, চুল রিবন্ডিং করবেন, তাহলে আগে থেকেই চুলকে প্রস্তুত করতে হবে রিবন্ডিংয়ের জন্য। জেনে নিন এখানে—
রিবন্ডিংয়ের আগে
প্রথমেই চুলের ধরন বুঝে নিতে হবে। বেবি হেয়ার গজাচ্ছে, এমন সময় রিবন্ডিং করার সিদ্ধান্ত না নেয়াই ভালো। আবার চুলে যদি হেয়ার কালার বা মেহেদি দেয়া থাকে, তাহলে রিবন্ডিং আপাতত করার দরকার নেই। কালার চুলে রিবন্ডিং করলে চুল বেশির ভাগ সময় রুক্ষ ও অমসৃণ দেখায়। চুলে কালার করার ছয় মাস পর রিবন্ডিং করতে পারেন। অন্যদিকে মেহেদি দেয়া থাকলে ১৫ দিন বা এক মাস পর রিবন্ডিং করলে সমস্যা নেই।
রিবন্ডিং করার আগে ভালো পার্লারের খোঁজ করুন। যেখান সেখান থেকে চুল রিবন্ডিং করবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। রিবন্ডিং করার সময় চুলে কয়েক ধাপে কয়েক রকমের মেডিসিন দেয়া হয়। এগুলো খুব ভালো মানের হতে হবে। একনাগাড়ে পুরো চুল রিবন্ডিং না করে নিচের দিক থেকে কিছু রিবন্ডিং করে কিছুদিন দেখুন। তারপরই সিদ্ধান্ত নিন। রিবন্ডিংয়ের সময় আগেই চুলের আগা ছেঁটে নিতে হবে। তাহলে রুক্ষতা কমবে। আর চুলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করতে হবে। কোনোভাবেই গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
রিবন্ডিংয়ের পর
চুল রিবন্ডিং করার পর যেসব নিয়মকানুন বিউটিশিয়ান বলে দেবেন, সেগুলো খুব ভালোভাবে মেনে চলতে হবে। রিবন্ডিং চুলের যত্ন খুব সূক্ষ্মভাবে নিতে হয়। না হলে চুল সুন্দর থাকবে না। এ ধরনের চুলে কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়। আর এ সময় চুল কন্ডিশনিং করতেই হবে। রিবন্ডিং করার পর এক মাস মাথার তালুতে তেল ও কোনো ধরনের প্যাক ব্যবহার করা যাবে না। চাইলে চুলের আগার মসৃণতার জন্য তেল লাগাতে পারেন। এক মাস পর তেল ব্যবহারে ক্ষতি নেই।
রিবন্ডিংয়ের পর চুল দুর্বল থাকে। তাই এ সময় চুল খোলা রাখাই ভালো। এক-দুই মাস পর চুল বাঁধতে পারেন হালকা করে। তবে বেণি করা ও শক্ত করে ঝুঁটি করা থেকে বিরত থাকুন। অনেকেই ভেজা চুল শুকানোর জন্য হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার করেন। রিবন্ডিং করা চুলে এটা ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি স্ট্রেইটনার ও কার্লারও ব্যবহার করবেন না। চুল দ্রুত শুকানোর জন্য তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। ভেজা চুল না আঁচড়ানোই ভালো।
রিবন্ডিং করার পরপরই চুলে কালার করতে যাবেন না। এতে চুলের মসৃণতা নষ্ট হয়। চুলে কোমলভাব বজায় রাখতে শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ হবে। তাছাড়া চুলের উপযোগী প্রোটিন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ










