সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ যুগে তথ্যের যেমন অভাব নেই, তেমনি বিভ্রান্তিও কম নয়। বিশেষ করে ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ইন্টারনেটে আমরা প্রায়ই দেখি ভাতকে ‘ভিলেন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ বলেন এতে কেবল কার্বোহাইড্রেট ঠাসা, আবার কেউ বলেন এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সমস্যা কি আসলে ভাতে, নাকি আমাদের খাওয়ার ধরনে?
ভারতীয় পুষ্টিবিদ কবিতা দেবগন মনে করেন, ভাত মোটেও ক্ষতিকর নয় বরং খাওয়ার সঠিক কৌশল জানলে এটি আপনার শরীরের জন্য মহৌষধ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাঙালির প্রধান খাদ্য যেহেতু ভাত, তাই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এ সহজ নিয়মগুলো বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
রান্নায় একটু চর্বি যোগ করুন
ভাতের গুণাগুণ বাড়াতে রান্নার সময় সামান্য ঘি বা ভালো মানের চর্বি যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। এক চা-চামচ ঘি শুধু যে ভাতের স্বাদ বাড়ায় তা নয়, এটি পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
গরম ভাত নাকি বাসি ভাত?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ হলো—গরম ভাতের চেয়ে ঠাণ্ডা বা বাসি ভাত বেশি উপকারী। রান্না করা ভাত সারা রাত ফ্রিজে রেখে পরদিন খেলে তাতে ‘প্রতিরোধী স্টার্চ’ তৈরি হয়। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য দারুণ কাজ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
পাতে খাবার সাজানোর ক্রম বদলে নিন
বাঙালি খাবারে আমরা সাধারণত শুরুতেই ভাতের গ্রাস মুখে তুলি। কিন্তু কবিতা দেবগন বলছেন ভিন্ন কথা। ভাত খাওয়ার আগে পাতে থাকা আঁশযুক্ত খাবার যেমন, সালাদ বা শাকসবজি খেয়ে নিন। এরপর প্রোটিন (ডাল, মাছ, মাংস বা ডিম) খান। সবশেষে অবশিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে ভাতটুকু খান। এ নিয়মটি অনুসরণ করলে ভাতের পরিমাণ যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমনি হজমও হয় চমৎকার।
সময়ের গুরুত্ব ও ভালো ঘুম
অনেকেই মনে করেন রাতে ভাত খাওয়া নিষিদ্ধ। তবে পুষ্টিবিদের মতে, রাতে পরিমিত ভাত খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা গভীর ও আরামদায়ক ঘুমে সহায়তা করে। তবে মনে রাখবেন, দিনের বেলা ভাতের পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও রাতের বেলা তা যেন সীমিত থাকে।
গাঁজানো খাবারের পুষ্টি
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ফারমেন্টড বা গাঁজানো চালের খাবার অত্যন্ত কার্যকরী। আমাদের ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত (কাঞ্জি), ইডলি বা দোসা এর অন্যতম উদাহরণ। প্রাতঃরাশে এ ধরণের খাবার খাওয়া হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই ভাতকে খাদ্যাতালিকা থেকে বাদ না দিয়ে বরং তা খাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনলেই পাওয়া সম্ভব নিরোগ ও সুস্থ জীবন।
এনডিটিভি অবলম্বনে










