মানসিক অবসাদ কাটাতে মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ ঘুরতে যায়, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, কেউ মুভি দেখে বা গান শোনে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাথরুমের দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।

ভেতরে তারা টয়লেট বা শাওয়ার ব্যবহার করে না। বরং নিজেরমতো করে সময় কাটায়। মূলত চারপাশের হট্টোগোল, ঘরের ঝগড়া, অফিসের মিটিং থেকে নিজেকে আড়াল করতে বাথরুমকে বেছে নিচ্ছে জেন জি প্রজন্ম। সেখানে গিয়ে কেউ মন দিচ্ছে গেমিং-এ, কেউ গানে আবার কেউ স্ক্রল করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ ট্রেন্ডটির নাম- বাথরুম ক্যাম্পিং।

ক্যালিফোর্নিয়ার সাইকোথেরাপিস্ট জেসিকা হান্ট বলেন, বাথরুমের বন্ধ দরজা মানসিকভাবে বিরতি নেয়ার অনুমতি দেয়। এটি এমন এক নিরাপদ জায়গা সেখানে কোন কারণ না দর্শিয়েই প্রাইভেসি পাওয়া যায়। যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। এটি নিজেকে পুনরায় সজ্জিত করার জন্য একটি অনুমোদিত স্থান।

যেহেতু নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগ। তাই এসময় বাথরুমকে আরো আরামদায়ক করা যায়। বাথরুম বাসার হলে, আরামদায়ক কার্পেট বিছিয়ে, অ্যারোমা থেরাপি ডিফিউজার বা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালানো যেতে পারে। সেইসঙ্গে স্ক্রিনে মনোরোম কোন দৃশ্য চালানো যেতে পারে। কিংবা কিছু সময় কাটানো যেতে পারে বই পড়ে।

বাথরুম ক্যাপিংয়ের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতির সাহায্য যারা নিচ্ছেন তারা হয়তো গভীর কোন মানসিক সমস্যা বা উদ্বেগে ভুগছেন। যদি এটি রোজকার অভ্যাসে পরিণত হয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ এড়ানোর জন্য হয় তবে তা দুশ্চিন্তার। সেক্ষেত্রে পরিবার বা মানসিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

দীর্ঘক্ষণ বাথরুমে সময় কাটানো স্বাস্থ্যের জন্যেও ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। অন্যান্য জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও রয়েছে।

এছাড়া পাবলিক বা কর্মস্থলের বাথরুম দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখলে অন্যদের অসুবিধা হতে পারে।