প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বয়স যত বাড়ে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তত কমে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বরং কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা সম্ভব।

বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্ক কীভাবে বদলায়

শিশুকালে আমাদের মস্তিষ্কে প্রতি সেকেন্ডে লাখ লাখ নতুন স্নায়ু-সংযোগ তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ গতি কমে আসে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্ক জীবনে পাঁচটি বড় ধাপ অতিক্রম করে। আর এ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো ঘটে গড়ে ৯, ৩২, ৬৬ ও ৮৩ বছর বয়সে। তবে এ পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের পেশীর মতোই মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখতে হয়। পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ, কাজ ও অবসরকালীন নানা কর্মকাণ্ড মস্তিষ্কে ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করে। যা বয়সজনিত ক্ষতি সামাল দিতে সাহায্য করে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গো বলেন, বয়স বাড়লেও গুরুতর মানসিক অবনতি অনিবার্য নয়। বরং যেকোনো বয়সেই মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা যায়। নতুন কোনো দক্ষতা শেখা বা শখ তৈরি করা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী।

গবেষণা বলছে, ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর। ফিনল্যান্ডে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার, ব্যায়াম, মানসিক অনুশীলন ও হৃদস্বাস্থ্যের দিকে একসঙ্গে নজর দিলে দুই বছরে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হতে পারে।

শখ

যেমন—

  • বাগান করা: গবেষণায় দেখা গেছে, এটি স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে
  • নতুন ভাষা শেখা: আলঝেইমারের উপসর্গ গড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত দেরিতে দেখা দিতে পারে
  • বই পড়া, ছবি আঁকা বা গান শেখাও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে

মস্তিষ্কের জন্য সঠিক খাবার

সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য রঙিন খাবার জরুরি। ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ মস্তিষ্ক ও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে—

  • প্রতিদিন অতিরিক্ত এক বাটি ফল বা সবজি খেলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়
  • আঁশযুক্ত খাবার (বাদাম, ডাল, শাকসবজি) মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
  • চর্বিযুক্ত মাছ, আখরোটের মতো ভালো চর্বি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়
  • ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
শরীরর্চচা

শরীরচর্চা মানেই মস্তিষ্কচর্চা

ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখে। ভারী ব্যায়াম না করলেও নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা হালকা দৌড়ই যথেষ্ট উপকার দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে—

  • মধ্যবয়সে নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে
  • ব্যায়াম মন ভালো রাখে, হতাশা কমায় ও মস্তিষ্ককে বয়সজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে
বন্ধুত্ব

বন্ধুত্বই দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে একাকীত্বজনিত জটিলতা। আর এটি স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে—

  • যারা সামাজিকভাবে সক্রিয়, তারা বেশি দিন সুস্থ থাকেন
  • বন্ধুত্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক সংযোগকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, দলগত কোনো শখের কাজ করা বা রানিং গ্রুপে যোগ দেয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।