শহুরে জীবনের ব্যস্ততায় গৃহকর্মী ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অনেকটাই নির্ভর করে গৃহকর্মীর ওপর। তাদের নিয়োগে সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি রাজধানীতে গৃহকর্মী-সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—গৃহকর্মী নিয়োগের আগে আমরা কি যথেষ্ট সাবধান হচ্ছি? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মৌলিক করণীয় মেনে চললেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
গৃহকর্মী নিয়োগে ১০টি করণীয়
১. সাম্প্রতিক তোলা ছবি সংগ্রহ করুন : নিয়োগের আগে অন্তত দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি রাখুন। অবশ্যই চেহারার সঙ্গে ছবি মিলিয়ে নেবেন।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিন : এনআইডি নম্বর থাকলে প্রয়োজনে আইনগতভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হয়। এনআইডি দিতে অনিচ্ছুক হলে নিয়োগ না দেয়াই নিরাপদ।
৩. বর্তমান বাসার ঠিকানা যাচাই করুন : বর্তমান ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে রাখুন। সম্ভব হলে নিজে বা পরিচিত কাউকে দিয়ে যাচাই করুন।
৪. শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্য রাখুন : গৃহকর্মীকে চেনেন এমন অন্তত একজনের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত করুন।
৫. আগের কাজের অভিজ্ঞতা যাচাই করুন : আগে কোথায় কাজ করেছে, কতদিন করেছে তা জেনে নিন।
৬. পরিচিত পরিবেশের গৃহকর্মীকে অগ্রাধিকার দিন : একই ভবন, এলাকা বা পরিচিত পরিবারের সুপারিশে নিয়োগ দেয়া তুলনামূলক নিরাপদ। নতুন এলাকায় বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা, কেয়ারটেকার বা পরিচিত প্রতিবেশীর সুপারিশে গৃহকর্মী নেয়া যেতে পারে। তবে সেখানেও ছবি, পরিচয়পত্র ও শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ জরুরি।
৭. বয়স নিশ্চিত করুন : ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে পূর্ণকালীন গৃহকাজে নিয়োগ দেওয়া আইনত ও নৈতিকভাবে অনুচিত।
৮. কাজের ধরন ও সময় আগে ঠিক করুন : কী কাজ করবেন, কত সময় কাজ করবেন এ বিষয়গুলো শুরুতেই পরিষ্কার না করলে পরে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। অতিরিক্ত কাজ চাপানোর প্রবণতা দ্বন্দ্ব বাড়ায়।
৯. বেতন ও ছুটি নিয়ে পরিষ্কার সমঝোতা করুন : মাসিক বেতন, বেতন দেয়ার তারিখ ও ছুটির বিষয়টি আগেই ঠিক করে নেওয়া জরুরি। অস্পষ্টতা থাকলে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১০. সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করুন : বাড়ির কোন জায়গায় প্রবেশ করা যাবে, কোন জিনিস ব্যবহার করা যাবে এসব বিষয় শুরুতেই জানানো উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় সন্দেহ বা অভিযোগ এড়ানো যায়। নিরাপত্তার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক আচরণ বজায় রাখলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়।










