‘টাকায় সুখ কেনা যায় না’—প্রচলিত এ প্রবাদ আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা কী আসলেই তাই? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, টাকা সরাসরি সুখ না কিনলেও জীবনের সন্তুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা পালন করে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, টাকা সরাসরি আনন্দ না দিলেও এটি মানুষের জীবনে ‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করে। লাইসেন্সড প্রফেশনাল কাউন্সেলর সারা হোয়াইটমায়ার বলেন, টাকা আর্থিক দুশ্চিন্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কমিয়ে দেয়। এ দুশ্চিন্তামুক্ত অনুভূতিই মানুষের কাছে সুখের মতো মনে হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, দারিদ্র্য দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। যখন একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা) মেটানোর নিশ্চয়তা থাকে না, তখন তার পক্ষে প্রকৃত সুখী হওয়া কঠিন। টাকা এ চাপ কমিয়ে দিয়ে মানুষকে নিজের শখ, সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ করে দেয়।

সুখের কী কোনো সীমা আছে?

গবেষণা বলছে, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুখের অনুভূতি বাড়তে থাকে। ২০১০ সালের একটি বিখ্যাত গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, বার্ষিক আয় একটি নির্দিষ্ট সীমা (প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার) ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সুখের গ্রাফটি কিছুটা স্থির হয়ে আসে। অর্থাৎ যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ যে পরিমাণ আনন্দ নিয়ে আসে, একজন কোটিপতির কাছে তা ততটা প্রভাব ফেলে না।

তবে ২০২৩ সালের নতুন একটি গবেষণা বলছে, আয়ের পরিমাণ বাড়লে সুখের মাত্রা একদম থেমে যায় না, বরং খুব ধীরগতিতে হলেও বাড়তে থাকে।

তবে মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, টাকা মানুষের জীবনকে উপভোগ করার সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু জীবনের ‘উদ্দেশ্য’ তৈরি করতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, টাকা সুখ দিলেও শান্তি দিতে পারে না। টাকায় আরামদায়ক বিছানা মেলে কিন্তু গভীর ঘুম নয়। তাই কেবল অর্থের পেছনে ছুটতে গিয়ে যদি কেউ সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক এবং পরিবারকে সময় না দেয়, তবে সে অর্থ তার জন্য মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বিনা পয়সায় সুখী হওয়ার উপায়

গবেষকরা বলছেন, মানসিক প্রশান্তি মূলত নির্ভর করে শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন, অর্থবহ কাজ ও সুস্থ হৃদয়ের ওপর—যা টাকা দিয়ে কেনা অসম্ভব। টাকা থাকুক বা না থাকুক, নিচের অভ্যাসগুলো প্রকৃত সুখী হতে সাহায্য করবে:

  • বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে অর্থবহ সময় কাটানো মানসিক সমর্থনের সবচেয়ে বড় উৎস।
  • প্রতিদিন নিজের জীবনের প্রাপ্তিগুলোর জন্য ডায়েরি লেখা বা কৃতজ্ঞতা মানুষকে ইতিবাচক হতে সাহায্য করে
  • দিনে অন্তত ২০ মিনিট খোলা বাতাসে বা সবুজের মাঝে হাঁটলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।
  • স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা শখের কোনো কাজ (যেমন: ছবি আঁকা বা রান্না) মানুষের মনে গভীর তৃপ্তি আনে।
  • অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করার অভ্যাস জীবনকে উপভোগ করার সুযোগ দেয়।