প্রবাদে আছে—আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী। কিন্তু আদতে ব্যক্তিত্ব না কি বাহ্যিক সৌন্দর্য কোনটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চাবিকাঠি? সাধারণত মনে করা হয়, প্রথম দেখায় কাউকে ভালো লাগার পেছনে কেবল সুন্দর চেহারাটাই কাজ করে। কিন্তু মনোবিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। বাহ্যিক আকর্ষণ হয়তো আপনাকে কারও নজরে আনতে পারে, কিন্তু হৃদয়ে জায়গা করে নিতে প্রয়োজন কিছু বিশেষ মানবিক গুণ।

১. কেন ব্যক্তিত্ব রূপের চেয়ে এগিয়ে?

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মানুষ যখন তার পছন্দের গুণাবলীর তালিকা করে, তখন ‘চেহারা’ বা 'শারীরিক সৌন্দর্য' মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। এমনকি টাকা-পয়সা বা দামী বাড়ির মতো বিষয়গুলোও তালিকার নিচের দিকে থাকে। মানুষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় তিনটি গুণের ওপর:

  • সহমর্মিতা বা অমায়িকতা
  • সামাজিকতা
  • বুদ্ধিমত্তা

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেউ খুব বুদ্ধিমান বা মিশুক হলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ চেহারার চেয়েও বেশি টেকসই হয়।

২. সম্পর্কের তুরুপের তাস: অ্যামিয়েবিলিটি বা অমায়িকতা

ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্রেগ ওয়েবস্টার জানান, একটি সফল সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী হলো মানুষের অমায়িকতা। এর অর্থ হলো আপনি অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল, সহানুভূতিশীল এবং দয়ালু। গবেষণায় দেখা গেছে: শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়া কঠিন। সৌন্দর্যের সঙ্গে যখন ‘ভালো মানুষ’ হওয়ার গুণটি যুক্ত হয়, তখনই একজন মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠেন। একজন দয়ালু মানুষের সাথে থাকলেই কেবল সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন কাটানো সম্ভব।

৩. আধিপত্য যখন আকর্ষণের কারণ

মানুষ সাধারণত সামাজিকভাবে প্রভাবশালী, শারীরিকভাবে শক্তিশালী বা আর্থিকভাবে সচ্ছল সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে। অধ্যাপক ওয়েবস্টার বলেন, মানুষ এমন সঙ্গী চায় যে বাইরের পৃথিবীর সাথে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু সে ক্ষমতা যেন তার সঙ্গীর ওপর প্রয়োগ না করে। এ আধিপত্য যদি ‘দয়া’ বা ‘সহমর্মিতা’ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবেই তা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

৪. মিল না কি অমিল—কোনটি বেশি কার্যকর?

ডেটিং অ্যাপ ‘সো সিঙ্কড’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেস অল্ডারসন মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু মিল ও কিছু অমিল থাকা জরুরি। একই ধরণের মূল্যবোধ, জীবনধারা ও স্বভাব থাকলে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা সহজ হয়।

তবে ব্যক্তিত্বের কিছু ভিন্নতা সম্পর্কের মাঝে ‘উত্তেজনা’ বা ‘স্পার্ক’ বজায় রাখে। যেমন, একজন যদি খুব লাজুক হয় ও অন্যজন যদি কথা বলতে পছন্দ করে, তবে তারা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

বাহ্যিক সৌন্দর্য সময়ের সাথে ম্লান হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিত্বের দীপ্তি কখনও কমে না। মনোবিজ্ঞান বলছে, আপনি যদি অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন, দয়ালু হন ও আপনার বুদ্ধিমত্তা যদি অন্যের উপকারে আসে, তবে আপনি সাধারণ চেহারা নিয়েও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন।

বিবিসি অবলম্বনে