সুন্দর ও নিখুঁত ত্বককে সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তবে আজকাল অনেকের কাছেই ব্রণ একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বস্তিকর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর টিনএজ বা বয়ঃসন্ধিকাল পার হয়ে যাওয়ার পরও যদি এ সমস্যা দেখা দেয়, তখন বুঝতে হবে এর পেছনে লুকিয়ে আছে শরীরের অভ্যন্তরীণ বড় কোনো পরিবর্তন। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হরমোনাল একনি’ বা হরমোনজনিত ব্রণ।

ভারতের দিল্লির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. গুরভীন ওয়ারাইচ গারেকার হরমোনাল ব্রণের প্রকৃত কারণ ও তা মোকাবেলার সঠিক উপায় তুলে ধরেছেন।

হরমোনাল ব্রণ আসলে কী?

ড. গুরভীন বলেন, ‘আপনি যদি ৩০ বছরের বেশি বয়সী নারী হন এবং কৈশোরে ব্রণের সমস্যা না থেকেও এখন নিয়মিত এ সমস্যায় ভোগেন, তবে বুঝে নিন এর পেছনে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে।'

তিনি জানান, হরমোনাল ব্রণ মানেই অপরিচ্ছন্ন বালিশের কভার, নোংরা ফোন বা মেকআপের দায় নয়। এগুলো বড়জোর সমস্যাটিকে কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পেছনে দায়ী শরীরের ভেতরের পরিবর্তন।

এ ধরণের ব্রণ কেন হয়

আমাদের জীবনযাত্রার কিছু ভুল অভ্যাস এই সমস্যার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ড. গুরভীন ৪টি কারণ হরমোনাল ব্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে মনে করেন।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ: মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ হরমোন সেবাসিয়াস গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে প্রচুর পরিমাণে তেল উৎপন্ন করতে বাধ্য করে। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে ব্রণের জন্ম দেয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এই সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে।

দুগ্ধজাত খাবার: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খান তাদের ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গরুর দুধে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্ড্রোজেন হরমোন মানুষের শরীরের হরমোন ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়, যা সেবাম (ত্বকের নিচে থাকা সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক ধরণের তৈলাক্ত বা মোমের মতো চটচটে পদার্থ) উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।

উচ্চ শর্করা বা চিনি: মিষ্টিজাতীয় খাবার, সোডা, ক্যান্ডি বা সাদা পাউরুটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনকে সক্রিয় করে তোলে। এই প্রক্রিয়ায় লোমকূপের কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তেল জমে ব্রণ সৃষ্টি হয়।

ওজন বৃদ্ধি: শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে নিয়ে যায়। যখন শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, তখন তেলের উৎপাদন বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজন অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বকে ব্রণ তৈরি হয়।

প্রতিকারের পথ কী?

ড. গুরভীন ওয়ারাইচ গারেকারের মতে, শুধু বাইরে থেকে ক্রিম বা ওষুধ মেখে হরমোনাল ব্রণ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন:

মানসিক চাপমুক্ত জীবন: যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: দুধ ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ইনসুলিন লেভেল স্বাভাবিক রাখা।

ব্রণের লক্ষণগুলো দেখে ঘাবড়ে না গিয়ে সেগুলোর মূল কারণ শনাক্ত করুন। জীবনযাত্রায় সঠিক পরিবর্তন আনলেই ফিরে পাওয়া সম্ভব উজ্জ্বল ও ব্রণমুক্ত ত্বক।

এনডিটিভি অবলম্বনে