শীত এলেই ছাদবাগানের যত্নে কিছু বাড়তি মনোযোগের দরকার পড়ে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও রাতে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়, বেড়ে যায় বাতাসের আর্দ্রতা। ফলে গাছের বাষ্পীভবন কমে যাওয়ায় পানি শোষণ প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়। এ সময়ে ছাদবাগানের অনেক গাছের গোড়ায় নতুন করে মাটি দেয়ার প্রয়োজন হয়।

কেন শীতে মাটি দেয়া দরকার

ছাদবাগানের টব বা বেডে থাকা মাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বসে যায়। শীতে পানি কম দেয়ার কারণে এ সমস্যা আরো স্পষ্ট হয়। ফলে অনেক গাছের শিকড় উপরের দিকে উঠে আসে বা আংশিক উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। শীতের ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশায় শিকড়ের এমন ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন ঝুরঝুরে মাটি দিলে শিকড় ঢেকে যায়, আর্দ্রতা ধরে রাখে আর গাছ ঠান্ডা থেকে কিছুটা সুরক্ষা পায়।

কোন গাছের ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন

ছাদবাগানে থাকা ফল, সবজি ও ফুলগাছের ক্ষেত্রে শীতকালে গোড়ায় মাটি দেয়া তুলনামূলক বেশি প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে লেবু, পেয়ারা, ডালিম, মরিচ, টমেটো, বেগুন, গাঁদা, গোলাপের মতো গাছ শীতে এ যত্নে উপকার পায়। এ ছাড়া মানি প্লান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা ফিলোডেনড্রনের মতো টবের ইনডোর প্ল্যান্টে যদি মাটি বসে যায় বা শিকড় দেখা যায়, সেখানেও সামান্য মাটি দেয়া যেতে পারে।

যেসব গাছে বাড়তি মাটির প্রয়োজন নেই

সব গাছেই যে শীতে মাটি দিতে হবে, তা নয়। বড় ও পুরনো গাছ, যাদের গোড়া শক্ত এবং মাটি স্থিতিশীল, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন মাটি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গাছ যদি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে এবং পাতার রঙ সবুজ থাকে, তাহলে বাড়তি কিছু না করাই ভালো।

কীভাবে মাটি দেবেন

শীতে গাছের গোড়ায় মাটি দেয়ার সময় খুব বেশি মাটি চাপা দেয়া উচিত নয়। আগে আগাছা পরিষ্কার করে গোড়ার চারপাশের মাটি হালকা করে আলগা করে নিতে হবে। এরপর দোআঁশ মাটির সঙ্গে পচা গোবর বা কম্পোস্ট মিশিয়ে অল্প অল্প করে গোড়ায় দিতে হবে। মাটি দেয়ার পর খুব শক্ত করে চেপে ধরা যাবে না।

মাটি দেয়ার পর হালকা পানি দেয়া ভালো, তবে শীতে অতিরিক্ত পানি দেয়া ক্ষতিকর হতে পারে। সকালে বা বিকালের দিকে মাটি দেয়া ভালো, যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকে।

গাছের বিশেষ যত্ন

শীতকালে ছাদবাগানে সার প্রয়োগ কমাতে হয়। এ সময় ভারী রাসায়নিক সার না দিয়ে জৈব সারই উত্তম। পাশাপাশি গাছকে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করা দরকার। কুয়াশার পরিমাণ বেশি হলে রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো।