তাজমহলকে কল্পনায় ফুটিয়ে তুলতে হাজারো গল্প, কবিতা, উপন্যাস রচিত হয়েছে। ভারতের আগ্রায় অবস্থিত এ স্থাপত্যশৈলী নিয়ে লেখা খুঁজতে গেলে সেই তালিকা বেশ দীর্ঘ হবে। সপ্তদশ শতকে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম এ তাজমহল। এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রও। যে তাজমহল নিয়ে এত কিছু, তা নিজ চোখে দেখার প্রত্যাশা কার না মনে জাগে!
মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী আরজুবান্দ বানু বেগম মমতাজকে ভালোবেসে তার সমাধিতে তাজমহল নির্মাণ করেন। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভালোবাসার নিদর্শন, যা নির্মাণ করতে ২০ হাজার শ্রমিকের ২২ বছর সময় লেগেছিল। ১৬৩১ সালে মোগল, পার্সি ও হিন্দু স্থাপত্যের মিশ্রণে তাজমহলের নির্মাণ শুরু হয়। ১৬৫৩ সালে এটির নির্মাণ পুরোপুরিভাবে শেষ হয়। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
তাজমহল দর্শনে বছরের সেরা সময় অক্টোবর-মার্চ। যদিও আরামদায়ক আবহাওয়ার সঙ্গে ভিড়ও থাকবে। এপ্রিল-জুনে ভিড় কম থাকলেও তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে। এমনকি তাপমাত্রা ৪০-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। দিনের সেরা সময় হলো বিকাল। ছবি তোলার জন্য বিকাল সেরা সময়। তাজমহল দেখতে সম্প্রতি রাতেও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে রাতের তাজমহল দেখতে মাসে কেবল পাঁচদিন সুযোগ দেয়া হয়। সপ্তাহে শুক্রবার বাদে বাকি দিনগুলোয় সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত তাজমহল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাজমহলের টিকিটের সঙ্গে বিনা মূল্যে একটি আধা লিটার পানির বোতল ও জুতার কাভার দেয়া হয়।
তাজমহল মূলত কয়েকটি ভবনের সমষ্টি। এর কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি মসজিদ, একটি অতিথিশালা, একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, চারটি মিনার এবং মমতাজ ও শাহজাহানের সমাধি। তাজমহলের চার কোণে চারটি মিনার ও ২২টি গম্বুজ রয়েছে। তাজমহলের অভ্যন্তরে দুটি সারিতে আটটি করে ১৬টি কক্ষ। এসব কক্ষ অষ্টাভুজাকৃতির সমাধি দুটিকে বেষ্টন করে রেখেছে। পথের মাঝখানে রয়েছে পানির ফোয়ারা। সময় নিয়ে দেখলে উপলব্ধি করতে পারবেন বৈচিত্র্যময় এক তাজমহলকে।
তাজমহলের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে রবি ঠাকুর লিখেছেন, ‘এক বিন্দু নয়নের জল, কালের কপোল তলে শুভ্র সমুজ্জ্বল, এ তাজমহল।’
সূত্র: লোনলি প্ল্যানেট










