আপনি যদি ভেবে থাকেন চেহারায় বয়সের ছাপ বা বলিরেখা কেবল ত্বকের উপরিভাগের কোনো বিষয় তবে ভুল ভাবছেন। বার্ধক্য প্রক্রিয়াটি আসলে শুরু হয় ত্বকের অনেক গভীর থেকে। মার্কিন চিকিৎসক ড. থমাস পালোস্কি জানান, কেবল নামী-দামী ক্রিম বা লোশন মেখেই বার্ধক্য ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ হাড়ের গঠন, চর্বির বিন্যাস এবং হরমোনের পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ড. লনজিভিটি’ নামে পরিচিত এ চিকিৎসক সম্প্রতি চেহারার এ পরিবর্তনের পেছনের বিজ্ঞান এবং তা প্রতিরোধের উপায়গুলো তুলে ধরেছেন।

বার্ধক্য যেভাবে শুরু হয়

ড. থমাস জানান, আমাদের অজান্তেই চেহারার গভীরে কয়েকটি পরিবর্তন ঘটে। এরমধ্যে একটি হাড়ের কাঠামো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের কঙ্কাল বা হাড়ের গঠন অপরিবর্তিত থাকে না। হাড়ের ক্ষয় ও পরিবর্তনের ফলে টিস্যুগুলো ঝুলে পড়ে।

সময়ের সঙ্গে মুখের গভীর স্তরের চর্বি কমতে থাকে এবং উপরিভাগের চর্বি নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে চোখের নিচে ব্যাগ বা গালের চামড়া ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

বার্ধক্যের আরেক কারণ কোলাজেনের ক্ষয়। যখন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখা কোলাজেন ও ইলাস্টিন উৎপাদন কমে যায় তখন ত্বক পাতলা ও ঢিলেঢালা হয়ে পড়ে।

এছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ডিএনএর ক্ষতি করে বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে।আবার নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও বুড়িয়ে যায়।

বার্ধক্য ধীর করার ১২টি উপায়

ড. পালোস্কি চেহারার এ পরিবর্তন ধীর করতে ১২টি কার্যকর উপায়ের কথা জানিয়েছেন:

১. প্রোটিন গ্রহণ: ত্বকের প্রোটিন ও টিস্যুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

২. স্ট্রেন্থ ট্রেনিং: এটি মুখের হাড়ের কাঠামো ও গঠন ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

৩. রেটিনয়েড: কোলাজেন বাড়িয়ে ত্বকের মসৃণতা ফিরিয়ে আনে। এটি হলো ভিটামিন-এ এর একটি রূপ, যা ত্বক পরিচর্যায় ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।

৪. ভিটামিন ডি: হাড়ের পুনর্গঠনের জন্য এটি অপরিহার্য।

৫. রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: খাওয়ার পর হাঁটলে রক্তে গ্লুকোজ স্থিতিশীল থাকে, যা কোলাজেনের ক্ষতি রোধ করে।

৬. সানস্ক্রিন: প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার ফটো-এজিং বা সূর্যের আলোজনিত বার্ধক্য রোধ করে।

৭. পর্যাপ্ত পানি: ত্বককে ভেতর থেকে সজীব ও টানটান রাখে।

৮. রেড লাইট থেরাপি: এটি কোলাজেন উৎপাদনে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

৯. দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা: দুপুরের কড়া অতিবেগুনি রশ্মি এড়িয়ে চলা বার্ধক্য ঠেকানোর সেরা উপায়।

১০.ত্বকের সুরক্ষা: এটি প্রদাহ কমায় ও আর্দ্রতা ধরে রাখে। ত্বকের সুরক্ষা ধরে রাখতে উপযুক্ত ক্লিনজার, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য। সিরামাইড বা গ্লিসারিনযুক্ত উপাদান ত্বক মেরামতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা গরম পানির মতো ভুল অভ্যাস ও রোদে পোড়া ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে দেয়।

১১. মানসিক চাপ কমানো: কম দুশ্চিন্তা করলে কোলাজেন দ্রুত ভেঙে যায় না।

১২. পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের স্বাভাবিক মেরামতে সাহায্য করে।

ড. পালোস্কির মতে, বার্ধক্য সবার জন্যই অনিবার্য। তবে আমরা সচেতন হলে এর গতি কমিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।

এনডিটিভি অবলম্বনে