বয়স, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস—এ তিনের সমন্বয়ে অনেকাংশে দৃষ্টিশক্তির অবস্থা নির্ধারিত হয়। আধুনিক জীবনে স্ক্রিননির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ওপর চাপও বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় খাদ্যতালিকার ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, শিকড়জাতীয় খাবার এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও সহজলভ্য সমাধান।

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তাম আনহ জেনারেল হাসপাতালের হাই-টেক আই সেন্টারের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. ডুয়ং মিন ফুক জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকুলা ডিজেনারেশন, রাতকানা, চোখে ঝাপসা দেখার মতো চোখের নানা জটিলতা বাড়তে থাাকে। এসব সমস্যার সমাধানে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কিছু খাবার নিয়মিত ও সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে চোখের স্বাস্থ্য অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

গাজর

১. গাজর

চোখের যত্নে গাজরের ভূমিকা বহুল আলোচিত। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশের পর ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। যা রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি কম আলোয় দেখার ক্ষমতা—বিশেষ করে রাতের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।

বিটা-ক্যারোটিন বয়সজনিত ম্যাকুলা ডিগেনারেশন ও ক্যাটারাক্টের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর। এটি চোখে ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ হ্রাস করে। তবে অতিরিক্ত গাজর খেলে শরীরে শোষিত না হওয়া বিটা-ক্যারোটিন জমে হজমের সমস্যা বা ত্বকে হলদে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার প্রায় ১০০ গ্রাম আর শিশুদের ক্ষেত্রে ৩০-৫০ গ্রাম গাজর খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

মিষ্টি আলু

২. মিষ্টি আলু

গাজরের মতোই মিষ্টি আলু চোখের জন্য উপকারী নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রচুর পরিমাণ বিটা-ক্যারোটিন ছাড়াও মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’, যা চোখের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন রেটিনা সুরক্ষায় সহায়তা করে চোখের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে। এছাড়া মিষ্টি আলুতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনও পাওয়া যায়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও সূর্যের ক্ষতিকর নীল আলো ফিল্টার করতে সাহায্য করে।

তবে অতিরিক্ত মিষ্টি আলু খেলে পেট ফাঁপা ও হজমের সমস্যা হতে পারে। উচ্চ শর্করার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

বিট

৩. বিট

বিটে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনাকে নীল আলো ও অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

এছাড়া বিটে প্রচুর প্রাকৃতিক নাইট্রেট রয়েছে, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তনালি প্রসারিত করে। এতে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়ে রেটিনা ও অপটিক নার্ভে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত হয়। যদিও বিটে বিটা-ক্যারোটিনের পরিমাণ গাজরের তুলনায় কম, তবু চোখের স্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারী।

7b0f7de0d116edd09fe4c91ccaca2984d75bbcc98d39e5ea

৪. হলুদ

ড. ফুকের মতে, হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক কনজাংটিভাইটিস, ইউভাইটিস, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। সেইসঙ্গে এট ম্যাকুলা ডিগেনারেশনের গতি ধীর করে।

তবে কারকিউমিন হজমনালিতে সহজে শোষিত হয় না। তাই হলুদ মরিচের সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, কারণ মরিচে থাকা পাইপারিন কারকিউমিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। অতিরিক্ত হলুদ খেলে বমি ভাব, পেটব্যথা এমনকি যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকিও থাকতে পারে।

পেয়াজ

৫. পেঁয়াজ

পেঁয়াজ সরাসরি দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় না, তবে পরোক্ষভাবে চোখের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোয়েরসেটিন প্রদাহ কমায় ও ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করে।

এছাড়া কোয়েরসেটিন রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, ফলে চোখের রেটিনায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজের নির্যাস হালকা চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কখনোই সরাসরি চোখে প্রয়োগ করা উচিত নয়, কারণ এতে তীব্র জ্বালা বা পোড়া লাগতে পারে।