নাম মনে রাখতে না পারা, বাজারের তালিকা ভুলে যাওয়া বা পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে না রাখতে পারা প্রায় সবারই সহজাত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গবেষণা বলছে, মাত্র কয়েক মিনিটের শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বদলে দিতে পারে। অ্যারোবিক ব্যায়াম বা কার্ডিও করার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে ঝালিয়ে নেয়া সম্ভব।

ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া-র স্নায়ুবিজ্ঞানী মিশেল ভসের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের ঠিক পরেই আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের বিশেষ বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি হয়, যাকে ‘ব্রেইন রিপলস’ বলা হয়। যখন অনেকগুলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন এ তরঙ্গ তৈরি হয়। তরঙ্গগুলো মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ায় এবং স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত ‘হিপোক্যাম্পাস’ নামক অংশটি স্মৃতি ও শেখার জন্য দায়ী। ব্যায়ামের ফলে এ অংশে রিপলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের সঙ্গে এর সমন্বয় আরো উন্নত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কিছু শেখার ঠিক চার ঘণ্টা পর হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। মজার বিষয় হলো, স্ট্রেচিং বা শরীর টানটান করার ব্যায়ামে স্মৃতিশক্তির এমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি; এর জন্য প্রয়োজন হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এমন ব্যায়াম বা কার্ডিও।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক ফ্লামিনিয়া রনকার মতে, আপনি যত বেশি ফিট থাকবেন, প্রতিটি ব্যায়ামের সেশন থেকে আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি সুবিধা পাবে।

নিয়মিত ব্যায়ামে পেশি ও কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, যা মস্তিষ্কে বিডিএনএফ নামক প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে। প্রোটিনটি নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র একটি ওয়ার্কআউট সেশন পরবর্তী দুই ঘণ্টা পর্যন্ত মনোযোগ বা ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সাথে সাথেই মস্তিষ্কে 'ফিল-গুড' হরমোন ডোপামিন নিঃসরণ হয়, যা মন ভালো রাখে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা কগনিটিভ ডিক্লাইন রোধ করতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তাই বড় কোনো ইন্টারভিউ বা পরীক্ষার আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে না থেকে, কয়েক মিনিটের জন্য সাইকেল চালানো বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস অনেক উপকারী।