১৯৮২ সালের গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেরোইন ব্যবহারকারী সাত তরুণ হাসপাতালে ভর্তি হন। তারা কেউ কথা বলতে বা নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। চিকিৎসকেরা আবিষ্কার করেন, এমপিটিপি নামের একটি রাসায়নিক উপাদান তাদের মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যার ফলে তাদের মাঝে দেখা গেছে পারকিনসনস রোগের চূড়ান্ত লক্ষণ।
এই ঘটনার পর তরুণ ডাচ চিকিৎসক বাস ব্লুমের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি পারকিনসনস রোগ নিয়ে গভীর গবেষণা শুরু করেন এবং বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের র্যাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।
ড. ব্লুম ও তার সহকর্মীদের মতে, এই রোগ শুধুমাত্র বার্ধক্য বা জেনেটিক কারণে নয়—পরিবেশগত কারণ, বিশেষত কৃষিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থও একটি বড় ভূমিকা রাখছে। এমপিটিপির গঠনগত মিল পাওয়া যায় ‘প্যারাকোয়াট’ নামক একটি বহুল ব্যবহৃত আগাছানাশকের সঙ্গে, যা একসময় ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইউরোপ রাসায়নিকটি নিষিদ্ধ হলেও অনেক দেশেই এটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্লুমের মতে, পারকিনসনস এখন আর কেবল ‘দুর্ভাগ্যের রোগ’ নয়। তার ভাষায়, ‘এটি একটি পরিবেশঘটিত রোগ এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এর প্রতিরোধে তেমন কিছু করছি না।‘
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পারকিনসনস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে, বিশেষত যেখানে কীটনাশকের ব্যবহার বেশি সেখানে এই রোগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। কিছু দেশ এরইমধ্যে এটিকে পেশাগত রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণের আওতায় আসছেন।
ড. ব্লুম বিশ্বাস করেন, আমাদের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রাসায়নিক নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শুধুমাত্র তীব্র বিষক্রিয়া নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকিও মূল্যায়নের আওতায় আনা জরুরি।
তার সতর্ক বার্তা স্পষ্ট— ‘আমরা যদি এখনই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিই তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো নিজেরাই নিজেদের প্রশ্ন করব, তখন আমরা কী ভাবছিলাম?’
পারকিনসনস রোগের প্রাদুর্ভাব কেবল বয়স বা বংশগতির কারণে নয়, পরিবেশগত বিষক্রিয়ার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্র: পলিটিকোর প্রতিবেদন থেকে ভাষান্তরিত ও সংক্ষেপিত










