সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন নিজেকে দেখেন, মনে হয় সব ঠিক আছে। সতেজ ত্বক, উজ্জ্বল চোখ আর পরিপাটি চুল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অফিসে ঢোকেন। কিন্তু দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকে অফিসের ওয়াশরুমের আয়নায় তাকাতেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! আয়নায় ভেসে ওঠে ক্লান্ত এক চেহারা। মনে হয়, ফ্যাকাসে আর মলিন মুখটা কি আসলেই আমার?
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমস্যাটি ‘অফিস এয়ার’ সিনড্রোম নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। নোয়া ডনলান নামের এক তরুণীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্ট বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নোয়া ডনলান জানান, প্রায় চার বছর আগে তিনি যখন পূর্ণকালীন কাজ শুরু করেন, তখন থেকেই বিষয়টি তার নজরে আসে। তিনি বলেন, ‘সকালে যখন বের হই, নিজেকে বেশ পরিপাটি লাগে। কিন্তু দুপুর ১২টা বাজতে না বাজতেই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চুল তেলতেলে হয়ে চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। মনে হয়, আমি যেন অন্য কোনো মানুষ!’
প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও সময়ের সঙ্গে নোয়া বুঝতে পারেন, এটি নিয়মিত ঘটছে। এমনকি কয়েকবার অফিস পরিবর্তন করার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তার এ অভিজ্ঞতার কথা অনলাইনে শেয়ার করার পর দেখা যায়, হাজারো মানুষ একই সমস্যায় ভুগছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘অফিসের আলোয় আমাকে ভিক্টোরিয়ান যুগের কোনো অসুস্থ শিশুর মতো দেখায়।’
আবার কেউ বলছেন, ‘অফিসে গেলেই চোখ লাল হয়ে জ্বালাপোড়া করে।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী? কেন এমন হয়?
অফিসের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ত্বক ও চুলের ওপর বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেন্ট্রাল এসি ও প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাব ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব শুষে নেয়। ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, নিস্তেজ ও খসখসে হয়ে পড়ে।
অফিসের বদ্ধ বাতাস বা রিসাইকেল করা বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র কণা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি করে। এটি অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা এবং ব্রণের অন্যতম কারণ।
এছাড়া সারাদিন কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে থাকায় ত্বকে পিগমেন্টেশন ও সূক্ষ্ম রেখা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও সতেজ বাতাসের অভাবে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়।
এমন পরিবেশে ত্বক ও চুলের ক্ষতি এড়ানোর কার্যকর উপায় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের এমন বৈরি পরিবেশ থেকে ত্বক ও চুল রক্ষা করতে কিছু সতর্কতা জরুরি। এরমধ্যে অন্যতম আর্দ্রতা বজায় রাখা। এ লক্ষ্যে ডেস্কে একটি ‘হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত পানি পান করা আবশ্যক।
ফেস মিস্ট: কাজের ফাঁকে ত্বকে ফেস মিস্ট স্প্রে করলে তাৎক্ষণিক আর্দ্রতা ফিরে পাওয়া যায়।
সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার: শুধু বাইরে নয়, অফিসের ভেতরেও ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার এবং ব্লু-লাইট প্রোটেকশন যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
চুল খোলা না রাখা: অফিসের শুষ্ক বাতাস থেকে বাঁচতে সম্ভব হলে চুল বেঁধে রাখা বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে।
সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় অফিসের কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের যত্ন নেয়াটাও জরুরি। অফিসের কৃত্রিম বাতাসে নিজেকে হারিয়ে না ফেলে একটু সচেতনতাই পারে আপনার চিরচেনা সতেজতা ধরে রাখতে।
এনডিটিভি অবলম্বনে










