মাইগ্রেনের যন্ত্রণার তীব্রতা ভুক্তভোগী না হলে বোঝা মুশকিল। বিশেষ করে শীতকালে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা তীব্র হয়ে দাঁড়ায়। শীত ও মাইগ্রেনের মধ্যে বাস্তব যোগসূত্র আছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তনের কারণে শীতকালে মাইগ্রেনের প্রকোপ বাড়তে পারে।

শীতে কেন মাইগ্রেন বাড়ে?

  • তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় স্ক্যাল্প, ঘাড়ের রক্তনালীগুলো দ্রুত সংকুচিত হতে শুরু করে। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের এ পরিবর্তনে ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুপথেও উত্তেজনা ছড়ায়। ফলে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস লাগলেও মাথার যন্ত্রণা শুরু হতে পারে।
  • শীতকালে বাইরে ঠাণ্ডা আর ভেতরে উষ্ণতা— ঠাণ্ডা-গরমের এ দ্বৈত অনুভূতি ভাস্কুলার সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে। শারিরীক সক্রিয়তাও কমে যায়, যা মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে।
  • শীতে সূর্যালোক কম থাকায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি ঘাটতির সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
  • রোদে সেরাটোনিনের মাত্রা বাড়ে, যা মেজাজ ফুরফুরে রাখে, কষ্ট যন্ত্রণার অনুভূতি কমায় আর দ্রুত ঘুম চলে আসে। কিন্তু শীতে ঠিক এর উল্টো। সার্কেডিয়ান রিদমের পরিবর্তনে মাইগ্রেন তীব্র আকার ধারণ করে।
  • শীতে কম ঘাম হওয়ায় অনেকে পানি কম পান করেন। শরীরে পানির ঘাটতি মাইগ্রেনের একটি বড় কারণ। এছাড়া শরীরকে উষ্ণ রাখতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • শীতে সাইনাস ইনফেকশন ও নাক বন্ধের সমস্যা বাড়ে। যা অনেক সময় মাইগ্রেনের সঙ্গে মিলেমিশে তীব্র মাথাব্যথা তৈরি করে।
  • শীতে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে ঘরবন্দি থাকা মানেই দীর্ঘ সময় টিভি, অথবা ফোনের স্ক্রিনের নজর থাকে। এতে চোখের ওপর চাপ পড়ে। বাড়ে মাইগ্রেন।

শীতে মাইগ্রেন কমাতে করণীয়

  • ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি মাথায় লাগতে দেবেন না
  • শীতেও দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন
  • ঘুমের রুটির ঠিক রাখতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস বজায় রাখুন
  • গরম জায়গা থেকে একদম ঠাণ্ডায় বের হওয়া এড়িয়ে চলুন
  • সম্ভব হলে সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকুন
  • ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমান, বিশেষ করে ব্যথার সময়
  • অতিরিক্ত চা-কফি, চকলেট, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন